Tuesday, July 17, 2018

"তোমার জন্য জায়গা আছে"



তুমি কখনো চাঁদ সূর্যের সমন্ময় দেখেছো?
দেখেছো তাঁদের উদয় অস্তের মিলনভূমি?
জানিতো দেখনি কারন ব্যস্ত তুমি......।
আচ্ছা তোমার পৃথিবীর উপাদান কি?
বলি....?
একটা সুবিশাল ফ্লাটে চারটে প্রানি,
একটা অফিস আর একটা গাড়ি।
ধর তুমিই তোমার শহরের রাজধানী।
যার হয়তো অনেক কাগজি নোট আছে পকেটে,হাতে।
লাভ কি তাতে ?
তোমার তুমিতে তুমি বলেতো কছু নেই,
আছে একটা নির্বোধ আর অজ্ঞ প্র্রানী।

প্রশ্ন জাগছে মনে ?
কেন তুমিও যা জান, আমিও তাই জানি?
আমি বলব না।
তুমি জেনেছ মুখস্ত করে,
আর আমি জেনেছি মুখোমুখী হয়ে।

তোমার আমার পর্থক্য জানবে?
কালো কাক সে তো তুমিও দেখো, আমিও দেখি।
কিন্তু তামাটে কাক ?
দেখনিতো জানি, শুনেছো কি এমন কোন পাখি ?
তুমি যখন তীব্র নিদ্রায় কোন বেকার ছেলের গরীব বাবার কাছে,
 চাকরির দামে কগজি নোটের হিসাব নিচ্ছ।
আমি তখন তামাটে পাখনার দূর্লভ কাকের সাক্ষাতে ব্যস্ত।
রহস্য কি তাঁর?
এই নিষ্ঠুর শহরের তীব্র সূর্যত্ত্বাপে তার মৌলিক রং ঝলসে গেছে?
নাকি চাঁদ-সূর্যের এই মিলন দিগন্তে
ভেসে বেড়ানো তামাটেমেঘগুলো পাখায় জড়িয়ে
কাক সাম্রাজ্যের নেতৃত্ব চাইছে?

আমি জানিনা,
তবে আগামী কোন ভোরে তাঁর সাক্ষাতের অপেক্ষা গুনব,
এ রহস্যের সমাধানে.....।

লাভ নেই বন্ধু, তুমি আগামী দেড়শো বছর বেঁচেও,
এ কাকের সন্ধান পাবে না।
সে অধিকার তোমার নেই।
তুমি চাইলে তোমার কাগজি নোট ছড়িয়ে,
আরো এক ডজন সুন্দরী বউ পেতে পারো।
আমার চোখের জলের প্রত্যক্ষ দর্শীর সাক্ষাত নয়।

হ্যাঁ আমি দুঃখী, তাইত তুমি হীন আমি ধনী।
আমার ইচ্ছে আছে,কান্না আছে,চেতনা আছে,হাহাকার আছে।
নেই পেটে ভাত, রাতে ঘুম আর কালকের বাস ভাড়াটা।
যা নিদ্রামুক্ত করেছে মহারাত্রিতে এ নিস্তেজ দেহটা।

 ভোরের প্রথম আজান ধ্বনি আমাকে এনে ফেলে
নিচ তালা থেকে পাঁচ তালার ছাদে,
এসেছিল পাখিটি আমার জিজ্ঞাসু চোখে
বয়ে চলা জলকে খনিকের জন্য ঠেকাতে।
এরকম হাজারও অভিজ্ঞতা
আমার চোখ থেকে মগজে স্থান নিয়েছে।
আর মগজের সে অশাব্দিক ভাষাগুলোকে
কলমের কালিতে প্রান দিচ্ছি আমার এ চিঠিতে।

লাভ কি তোমায় প্রকৃতির এ রং ধনুতে রাঙিয়ে ?
তুমিতো সর্বভোলা।
তুমি তোমার আদর্শের ভুবন শৈশব ভুলেছো।
ইট পাথরের কৃত্রিম শহড়ে মায়ের ভালবাসাকে বিসর্জন দিয়েছো।
স্বার্থদোষী সু্ন্দরী বৌউয়ের বর্বরতায় আপন ব্যক্তিত্ব হারিয়েছো।

এতো সম্পত্তির মালিক হলে চাকরি যবে।
সব রেখেছো  স্ত্রী-পুত্রের হাতে।
যদি তোমাকে কোনদিন তোমার পৃথিবী ছাড়তে হয়,
এই অপরাধে ?
তবে আমাকে স্মরিও বন্ধু-
আমার সম্পত্তি নেই,
আছে একখানি সম্পদ-"আমার ছেলে"
তাকেই পাঠাব তোমাকে আলিঙ্গন করতে।
আমার তৈরী পথশিশুদের আদর্শশালা আর বৃদ্ধাশ্রমে এসো,
তোমার জন্য জায়গা আছে।


Thursday, July 12, 2018

Global Friend


বই হল জ্ঞানের ভান্ডার,
তাইত বই পড়বো বারবার।
বই হল মানুষের বন্ধু,
আমাদের জ্ঞানের সিন্ধু।
বইকে মোরা বাসবো ভালো ,
তবেই হবে জীবন আলো।

বই হল জ্ঞানের ভান্ডার,
জীবন থেকে মুছে দেয় আধাঁর।
মোরা সুন্দর জীবন গড়ি ,
বইয়ের কারনে।
বই পুরনো ইতিহাস ,
এনে দেয় স্মরনে। 
৫২,৬৯,৭১ সবই আছে,
বই নামক জ্ঞানের মাঝে।

যদি জীবন গড়তে চাও,
মানুষ হতে চাও।
তবে বইকে কেড়ে নাও।
একটি কথা রাখ করে স্মরনে,
বইয়ের প্রান- 'জ্ঞান'ই হবে উত্তম সাথী
তোমার জীবনে ।।।

আইসক্রিম



সাল ২০১২, স্কুল টাইমের কোন এক মুহূর্তে রাস্তায় ছুটে আসা আইসক্রিম খেতে।
বিক্রেতা : ২, ৩ ও ৫ টাকার আইসক্রিম আছে, কোনটা নেবেন ?
ক্রেতা    : ৫ টাকার ৩টি আইসক্রিম দেন।
বিক্রেতা : ৩ টাকার ৩টি আইসক্রিম বের করে - নেন ।
ক্রেতা    : সন্দেহের বসে বললাম- ৩ টাকার টা দেখান তো।
বিক্রেতা : সাবলিল ভঙ্গিতে তিনি ২ টাকার আইসক্রম তুলে ধরলেন।
ক্রেত     : আচ্ছা, ২ টাকারটা বের করেন ।
বিক্রেতা : কেন ?
ক্রতা      : নেব ।
বিক্রেতা : এই গুলো ই ভালো, এর মধ্যে থেকেই নেন। চোখ দিয়ে অবশ্য বলছে যে , নেবে দুইটা আইসক্রিম তার কতো ঢং !!!
বিক্রেতা : যা হোক ২ টাকার আইসক্রম তিনি এখন কোথায় পাবেন ? এখন বাধ্য হয়ে ২ টাকা হিসেবে ৫ টাকার    আইসক্রিম  বের করলেন।
ক্রেতা     :ইতোমধ্যে তার কয়েকজন সহপাঠী আইসক্রিম খেতে আসলে ,সে সবার জন্য মোট ৭ টা আইসক্রিম নেয়।
               (৭*২=১৪) মামা , ১৫ টাকা রাখেন , আপনার দুই টাকার আইসক্রিম ই আমার পছন্দ হয়েছে।
বিক্রেতা :১টাকার ১টা কয়েন ফেরত দিয়ে বলে ,১ টাহা বেশী দিয়ে যাওয়া লাগবেনা। আমার চেয়ে বেশী বোঝে!

আমরা ফিরে গিয়ে ৩৫ টাকাই দিলাম আর তার নিঃশব্দ গ্রহনে খুঁজে পেলাম আত্মশোধনের নীরব শপথ।

Sunday, July 8, 2018

"Civilization"

সভ্যতা শব্দটি ইংরেজি Civilization শব্দটি থেকে এসেছে যার ল্যাটিন অংশ Civis এর অর্থ নগরে বসবাসরত ব্যক্তি। এর কারন হল, যখন কোন স্থানের মানুষ সভ্য হয়, তখন তারা কোন ছোট গোত্র বা যৌথ পরিবারের মত দলে নয় বরং নগরীর মত একটি বৃহৎ সুগঠিত আকারের দলে বসবাস করে। সভ্যতার অনস্বীকার্য গুরুত্বপূর্ন উপাদান মানুষ।
সৃষ্টির প্রথম প্রহরে এই মানুষ গুহায় বা জঙ্গলে বিশৃঙ্খল জীবন-যাপন করত। ধীরে ধীরে মানুষ তার প্রয়োজনেই সংঘবদ্ধ জীবনের প্রয়োজনীয়তা অনুভবের ফলে সভ্যতার শুভ সূচনা করে জন্ম হয় সমাজের। এই সংঘবদ্ধ জীবনে মানুষের আচার-আচরন, চিন্তা-ভাবনা, প্রত্যাশা-প্রাপ্তি প্রভৃতি কার্যকলাপের ফলে সৃষ্ট জটিলতা ও তা সমাধানের প্রচেষ্টায় পর্যায়ক্রমে উদ্ভাবন হতে থাকে নতুনত্বের। বস্তুত মানুষের সাংগঠনিক বসবাসের ক্রমোন্নতির বিভিন্ন পর্যায়ই হল সভ্যতার বিভিন্ন ধাপ। যেমন, গ্রিক সভ্যতা, রোমান সভ্যতা, মেসোপটেমিয়ো সভ্যতা ইত্যাদি।
             সর্বোপরি, মানুষ ও তার কার্যকলাপকে ঘিরে প্রচলিত আইন, সংস্কৃতি, জীবন ব্যবস্থা ও আত্মরক্ষার নিজস্ব পদ্ধতির সুপরিকল্পিত ব্যবস্থাই সভ্যতা।

Wednesday, July 4, 2018

Earn


"অপরের জন্য কিছু করতে পারাটাই জীবনের প্রকৃত সংগ্রহ"

Saturday, June 30, 2018

Quata


৫৬% কোটা দিয়ে বাঙালী জাতিস্বর, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কৃতিত্বের মূল্যায়ন বিদ্রুপাত্মক।একাত্তরের নিঃস্বার্থ দেশ প্রেমের দুর্ধর্ষ নায়ক এ যোদ্ধাগোষ্ঠীর সম্মানার্থে ৫৬% কোটা ব্যবস্থা স্বাধীনতা পরবর্তী বাঙালী প্রজন্মের চরম সামর্থ্যহীনতার সর্টিফিকেট। আর সে সামান্য স্বীকৃতির বিরূদ্ধে আন্দোলন এ জাতির মূর্খতাও বটে।তবে, একাত্তরের সে দামাল সমাজ ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ৫৬% কোটার বিনিময়ে , তাঁদের নিঃস্বার্থ দেশপ্রেমের জলাঞ্জলি দিতে লজ্জিত।আত্মসম্মানের মহান আদর্শে কোটা সংস্কার আন্দোলনে আজ তারা সাধারন মানুষের কাতারে।এটাই এ দেশিয় প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা আর তাদের বংশধরদের মাহাত্মে্র স্পষ্ট ইঙ্গিত।অন্যত্র, সুযোগ-সুবিধাকে আকড়ে ধরে বাঁচতে চাওয়া এ দেশীয় তৃতীয় শ্রেনীগোষ্ঠী আজ মুক্তিযুদ্ধার খোলস পড়ে, সাধারন মানুষের অধিকার লুন্ঠনে বদ্ধপরিকর। কেবলমাত্র তারাই এ কোটাব্যবস্থার অন্তিম সমর্থক ।শুধুমাত্র সুযোগ-সাবিধার আশায় যারা এ দেশের প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানকে ম্লান করে একই সাথে সাধারন মানুষের অধিকার নিয়ে রাজনীতি করে তারা নিশ্চয় ,৭১'র এ রাজাকার হবার সামর্থ্য রাখে।৭১'র প্রতিটি বীর মুক্তিযোদ্ধা যাঁরা বেঁচে আছে এবং মরে গেছে-তাদের অভ্যুদেয় এ বাঙালি জাতি আজ তাদের কাছে লজ্জিত এজন্য যে - স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরেও আজ আমরা প্রকৃত মুক্তযোদ্ধা ,তাঁদের আত্মত্যাগের লক্ষ্য আর মহান উদ্দ্যেশ্যের মর্যাদা দানে ব্যর্থ।

color

তোমাকে ঘিরে ঠাঁয় দাড়িয়ে থাকা ইট-বালুর স্তম্ভগুলো,
হয়তো শুধু তোমার চোখেই জমকালো।
বাস্তবতার অংকন তুলিতে
তার পরতে পরতে ইতিহাস লুকানো।

Wednesday, June 27, 2018

Importance



অপাত্রে অশ্রু দানিও না।
তোমার আবেগ নিয়ে যে রাজনীতি করে,
ঘৃনা কর তুমি, তাঁর প্রতি তোমার সে প্রেমকে।
যাকে ভুলে যাওয়া ভীষন প্রয়োজন ,
 অপ্রয়োজনীয়ভাবে হলেও বিশেষ গুরুত্ব দাও তাকে।
দেখবে তোমায় আর স্বার্থপর হতে হবে না,
সে নিজেই সদম্ভে তোমায় ছেড়ে যাচ্ছে।

সময়ের অন্তিম প্রহরে,
যদি সে আবারও ফিরে আসে,
তবে জেনে রেখো-
সে যতখানি না স্বার্থপর ছিল,
তার থেকে বেশী নির্লজ্জ।




Tuesday, June 26, 2018

No immotion

আবেগী নয়, বাস্তববাদী হও।

Saturday, June 23, 2018

Help


Ultimately দুই ধরনের মানুষ তোমায় বেশী help করেছে।
1.যে তোমায় hurt করেছে
2.আর যে Motivate করেছে

Friday, June 22, 2018

Hard Work

Fortunately, না চাইতে'ই অনেক কিছু পাওয়া যায়।
But More Fortunately, যেটা চাই সেটার জন্য 
Unlimited কষ্ট করার সৌভাগ্য যেন হয়।
কারন, আমি সেটাই চাইতে বাধ্য হয়েছি,
যেটা বসে বসে পাইনি।

Your story


Sorry,
আমি তোমায় আমার সাধারন দৃষ্টিসীমায় নামিয়ে বিচার করেছি,
তাই গুরুত্ব বুঝিনি।
তুমি কোন সাধারন মেয়ে ছিলে না.।
বুঝতে ভুল ছিল,
নারী মানে অন্য কিছু,
তুমি নারী আর আমি না।
এ পার্থক্যটা এতই সূক্ষ্ যে, যাঁর অর্থ হতে পারে-
"কেউ অন্য জীবন নিজের মধ্যে ধারন করতে পারে,
আর কেউ পারেনা "
স্পষ্ট বুঝতে পারছি-
রুপে লাবন্যে অতি নগন্য হলেও,
 কোথাও যেন একটু অসাধারনেরও উর্ধ্বে তুমি।

ইতি-আমি,
যে তোমার পড়ন্ত বিকেলের কল্পনামাত্র।
আর তুমি হয়ে আছ যাঁর ভোর রাতে দেখা দুঃস্বপ্ন।
অধিকার একটা বড় জিনিস,
যা আমি হারিয়েছি।
মনে না-ই  রাখো,
খারাপ থাকো ,ভালো থাকো
ক্ষমা কর।

যে কলমে আজ লেখা হল,
কি জানি,সে কলমধারী হয়তো শুধু ভাষাই দিল।
হতে পারে এটা তোমার মত কারো অপ্রকাশ্য অপমান।
আমি আজিনুর শুধু তাতে, কলমের কালিতে প্রান দিলাম।
                                                                   (..আজিনুর..)




Thursday, June 21, 2018

Responsibility

"তুমি তোমার কাছের মানুষদের মূল্যবান বিশ্বাসের উপর দায়বদ্ধতা রেখে পথ চল,
তবে অন্য কোন মানবদৃষ্টির ক্ষনিকের অবমূল্যায়ন তোমায় ক্লান্ত করতে পারবে না"
কারো প্রশংসা পেতে হলে, তাঁর oposite personer নিন্দা পাওয়াটা স্বাভাবিক...।

Friday, June 8, 2018

Gain



তোমার Dictinary থেকে অজুহাত শব্দটি মুছে ফেল।
দারিদ্রতা বা সাহায্যের অভাব কোন অজুহাত হতে পারেনা।
লরি জন গেটসকে আমরা কয় জনে চিনি ? যা ও চিনি,
তা বিল গেটসের ছেলে হিসেবে।
মহান ব্যক্তিদের ছেলে মেয়েরা খুব কমই সাফল্যের মুখ দেখে।
কিছু পাওয়ার জন্য তাদের খুব বেশী চেষ্টা করতে হয় না।
তাই Reference ছাড়া কেউ তাদের চেনেনা।
আমাদের তো রেফারেন্স নেই, Self-made হতে হবে।
অপেক্ষা না করে সুযোগের ব্যবহার করি।
সুযোগটা যত ক্ষুদ্র হোক, সেখান থেকেই গড়ে উঠি।

 বাঘ তখনই শিকারী হয়ে উঠে,যখন তার পেটে ক্ষুধা থাকে।

Thursday, June 7, 2018

True


"  যা পেলেনা তা কোনদিনই তোমার ছিল না  "

Tuesday, June 5, 2018

life's game


জন্ম দিলেই সন্তান কর্তৃক প্রাপ্ত সম্মানপত্র অর্জিত হয়ে যায় না।তোমরা হয়তো এক ধরনের খেলার ছলে তোমাদের সন্তানদেরকে পৃথিবীতে নিয়ে আসো।
চেতনা জ্ঞান বহির্ভুত যত সুন্দরী নারী'ই তুমি হওনা কেন,তোমার সন্তান যদি তোমাতে বসতির চিহ্ন মাত্র দেখতে না পায় তবে,দায়িত্বপূর্ন গর্বিত রাজ্যে তোমার কলঙ্ক বিনা কোন অর্জন নাই।

Bad Eyes







"সুন্দর চোখে অশ্লীলতা ছাড়া 
সব কিছুই সুন্দর লাগার কথা।
তোমার ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হলে, 
সে অসভ্যতা আপন চরিত্র বিনা
আর কিছুর উপর চাপিওনা।"



Saturday, June 2, 2018

"সুকুরন বিবি"


১৯৬৯ সালের ২৩ শে ফেব্রুয়ারী যখন শেখ মুজিবুর রহমান পেয়েছিল তাঁর বঙ্গবন্ধু উপাধি, তার ঠিক ১০ বছর আগে ১৯৫৯ সালে মাতৃগর্ভ থেকে ভুমিষ্ট হয় এক ফুটফুটে তনয়া। নাম সুকুরন।

জন্ম থেকে সুকুরন ছিল চেতনাশীল এক সাহসী প্রতিবাদী। নিজ পরিবার আর সমাজের প্রতি ছিল তাঁর অপরিসীম দায়িত্ববোধ। সে ভালবাসত তাঁর বাবাকে, শ্রদ্ধা করত পূর্বপুরুষদেরকে আর প্রার্থনা করত বাপ-দাদার ভিটায় এক যোগ্য উত্তরসূরী দেখার। কারন, সে জানত এই পরিবারে চিরদিন থাকার অধিকার এই সমাজ কেন, এই পরিবারই কোন একদিন তাঁকে দেবে না ।

রাত যখন গভীর হয়, পাখিরাও ঘুমাতে যায়, সকাল আসছে ভেবে প্রকৃতি যখন নিজেকে সাজাবার স্বপ্নে বিভোর, সুকুরন তখন নির্জন আঁধারে চোখের কোনে দুফোটা অশ্রু জন্ম দিত আর বর্নহীন স্মৃতির পৃষ্ঠায় লিখে জমাত নারী অবমাননার নিঃশব্দ অধ্যায়গুলো।

সুকুরন বড় হয়।
"সুকুরন মাইয়া মানুষ, বয়স ১০ হইয়াছে, ঢের দেরী হইছে, আর করন লাগলে মাইয়ার বিয়া দেওন লাগবোনারে ",বলল পাশের এক চাচী। বিয়ের জন্য ঠিক করে দেয় সে তাঁর ভাইয়ের ছেলেকে।

১৯৬৯ এর ৪ ফেব্রুয়ারী বদরুলের হাতে সকুরনের বাবা সুকুরনকে তুলে দিয়ে তার ভাষায় স্বামী সেবার মহান দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়। তার কথাগুলো সাহিত্যিক ভাষা্য় ট্রান্সলেট করলে উপদেশগুলো এরকম আসবে হয়তো -"মা, দেখনাই যার, চেননাই যারে, শোননাই নাম কভু, সে 'ই আজিকে দেবতা তোমার সে ই তোমার প্রভু"।

সুকুরনের চোখের জল সেদিন সোনামুড়ী গ্রামের সব কল্যান ধুয়ে দিয়ে গিয়েছিল।
শশুর যরে পথম দুইদিন সুকুরনের ভালই কাটছিল। দিন বৃদ্ধির সাথে সাথে তাঁর সাথে শশুরঘরের অত্যাচারের সীমা প্রসারিত হয়। 
শাশুরী বলেন, "বিয়ের সোমা  তোর বাপ যে দুই বিঘা জমি লেইখ্যা দিল তা আনবি কবে পুরামুখী"? অন্যদিকে বদরুলের নির্যাতনও সুকুরনকে আতংকিত রাখতো। একদিন বদরুলের করা একটি আঘাত সুকুরনের মাথার ঠিক মাঝখানে লেগেছিল আর তখন মনে হচ্ছিল সনাতনী নিয়মে কোন সদ্য বিবিহিতার কপাল জুড়ে সিদুর ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে । এরকম বদরুল তাঁকে প্রতিদিনই মারত আবার জমির কথা মনে পড়লে সুকুরনের প্রতি তার মনে এক বিন্দু কৃত্রিম ভালবাসারও জন্ম হত। তাই
দেখতে দেখতে সুকুরন হয়ে ওঠে দুই সন্তানের জননী। সন্তানদের নিয়ে পেরে না উঠায় একদিন স্বামীর ডাকে সাড়া দিতে পারেনি সুকুরন। অন্ধকারে স্বামী এসে সুকুরনের পায়ের উপর এক ভারী কাঠ ছুড়ে মারল।
চিকিৎসার অভাবে সুকুরনের পা'টা ধীরে ধীরে ছোট হয়ে যায়। তাই পরবর্তীতে তাঁর শাশুরী, স্বামীসহ  সবাই তাকে খোড়া বলেই ডাকত।

দেখতে দেখতে চলে এল ৭১ এর ২৫ শে মার্চ। বাংলার সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ল স্বাধীনতার ঘোষনা। শুরু হল মহান মুক্তিযুদ্ধ, অংশ নিল হাজার হাজর নিরস্ত্র বাঙালী। সুকুরন সেই সব মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করতে লাগল । স্বামীর ভয়ে রাত দুপুড়ে সে মুক্তিবাহীনিদের সব কিছু এগিয়ে দিত।পা'টা খোড়া থাকায় ধীর গতির জন্য একদিন সে রাজাকারদের চোখে পড়ে যায়।
পরের দিন দাড়িওয়ালা, টুপিপড়া গোড়াইয়ের বাপ ও কিছু পাকবাহিনি সুকুরনের বাড়িতে গিয়ে সুকুরনের এক বছরের ছেলেটিকে গাছের সাথে আছাড় দিয়ে মেরে ফেলে। বদরুল ভয়ে পালিয়ে যায়। সুকুরন জ্বরে আক্রান্ত শাশুরিকে লুকাতে গিয়ে পাক বাহীনির হাতে ধরা পরে যায়, আর সেদিন ঘটে যায় বাঙালী নারীর জীবনে এক মর্মান্তিক ইতিহাস।

হোক ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। সবাই শান্তি ফিরে পেলেও বদরুল আক্রান্ত হয় কঠিন অসুস্থতায়। বদরুলের সব জায়গা-জমি বিক্রি করে সুকুরন তাকে চিকিৎসা করিয়েছে। বদরুল আজ নিজেই বাঁচবার আশা ছেড়ে দিয়েছে। হঠাৎ একদিন সুকুরনকে ডেকে তার কাছে ক্ষমা চায়, কার কাছে কত টাকা পাবে বলে দেয়, আর বলল- সামাদ মিয়া আমাগো মহা শত্রু, আমি মরে গেলে তুই কখনো ওর কাছে যাস না। স্বামীর শিয়রে বসা সুকুরনের দুগাল বেয়ে অশ্রু ঝড়ছিল, বেদনায় কাতর হয়ে উঠে বাঙালী নারী হৃদয়।

সুকুরন তাঁর বাবার বাড়িতে গেল। অসহায় পড়ে থাকা গ্রামের দিকে তাকিয়ে সুকুরন শব্দহীন হয়ে পড়ে সাথে জন্ম দেয় লবন জলের এক ছোট্ট হ্রদ। বাড়ির পথে পা রেখে দেখে তাদের বাড়ি-ঘর সব রাজাকাররা পুড়িয়ে দিয়েছে। তার দাদা, বাবা-মা, ভাই সবাই ৭১ এর স্রোতে ভেসে গেছে। শুধু এক কোনে পড়ে আছে ভাবি ও তিন ভাতিজি। অসহায় চারটা প্রানী ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে সুকুরনের দিকে যখন সে তার বাপের দেয়া দুই বিঘা জমি বিক্রি করে টাকা আনছিল।
বুক ফেটে যাচ্ছিল কিন্তু মুখ ফুটে কিছু বলার বা চোখের জল ছাড়া কিছু দেওয়ার ছিলনা সুকুরনের সেদিন।
শশুর ঘরে ফিরে আবার সুকুরন স্বামীর চিকিৎসা করাতে লাগল।ভাতের অভাবে ছেলেসহ সে রোজা রাখত। এভাবে ৫ মাস চিকিৎসার পর বদরুল সুস্থ হয়। আর না খেয়ে থাকতে থাকতে সুকুরন তার চেহারা, কর্মশক্তি সব হারাতে বসে। সুস্থ হওয়ার পর রোগা, পঙ্গু সুকুরনকে আর তার ভাল লাগে না।একদিন বিড়ি ধরানোর আগুন দিতে দেরি হওয়ায় খারাপ শব্দে, মুখের ভাষায় বদরুল সুকুরনকে তালাক দিয়ে দেয়। ইসলাম ধর্মে স্বামীর মুখের ভাষায় তালাক মেনে সুকুরন  নিরব, নিস্তব্ধ, মূর্তিমান পাথর হয়ে যায়। সেদিন সুকুরন নিরব হয়েছে, আজও কথা বলার শক্তি ফিরিয়ে আনেনি। চিরদিনের মত নির্বাক হয়ে যায় ৫৯ এর সে সম্ভাবনাময় জীবন।
মাকে হারিয়ে সুকুরনের সে ছেলেটি চোখে পশ্ন নিয়ে তাকায় সব মহিলাদের দিকে। কার ভিতর তার মা লুকিয়ে আছে সেই আশায় ? খেতের টমেটো চিরে চিরেও সে তার ভিতর মায়ের অস্তিত্ব খোঁজে ।

কী জানি তার মা হয়তো আজও এক শাড়িতে নির্বাক মুখে শুন্যে তাকিয়ে শ্রষ্ঠার সৃষ্টির নির্মম রহস্য জানতে চাইছে '।
এদেশে জন্ম নেওয়া একটি মেয়ে এ দেশের জন্য, স্বাধীনতার জন্য, দেশের মানুষের জন্য কত দাম দিল, কত ত্যাগ দানিল, এদেশের মানুষ তা বুঝল না ।

Wednesday, May 30, 2018

Women's Fredom

Image result for image of woman's suicide of bangladesh
মরেছে একটি মেয়ে নাম তার আনুষ্কা।
এসেছে পুলিশ বলে নিয়ে চলো লাশটা।
বললাম আমি যাবে না ও।
পুলিশ বলল কেন ?
কারন, স্বাধীনতার তেতাল্লিশ বছর পার হওয়া সত্ত্বে,
আজও যারা যাদের স্বাধীনতা পায়নি।
ইচ্ছা-অনিচ্ছা যাদের অনুশাসনের কারাগারে বন্দি।
জন্ম থেকে জীবন যাদের জঘন্য, মৃত্যু তো তাদের জন্য।
বলল পুলিশ- কি চাও বলতে ?
চাই এই ভূয়া সংস্কারে জর্জরিত সমাজকে ধিক্কার মারতে।
আনুষ্কার মত আর কতটি মেয়ে,
বাবার কাছে জীবনের শেষ চিঠি লিখবে ?
অর্শির মত আর কতটি মেয়ের জীবনের আশা-আকাঙ্খা-স্বপ্ন
বিষের বোতলে আবদ্ধ থাকবে ?
এর কি কোন প্রতিকার নেই ?
আর কতকাল এরা নিঃশব্দে ডাকবে ?
নারীরা চায় বাঁচতে,
আপনারা পারেননা এমন কিছু করতে ,
যেন না হয় অকালে ঝড়ে পড়তে ?
পুলিশটির চোখ জ্বলে পানিতে,
বলে- এ অধম হ্দয় ধন্য আজি তোমার বানীতে।
বলল তখন-একাত্তরের মহান যুদ্ধে এনেছি বাংলার জয়,
চাইনা আজ নারীর জীবন হোক এভাবে ক্ষয়।
তাইতো সকলে উচ্চ কন্ঠে করিল শপথ-
আজ থেকে খোলা নারী মুক্তির পথ।

Challenge


অন্ধ ভূমিগর্ভ হতে নিতাম যখণ শ্বাস ,
চুপি-চুপি শুনেছি মায়ের কাছে-
হতে হবে তোমায় বাংলার দামাল যেমন,কালিদাশ।
৪মে জন্ম নিয়ে শুনেছি দাদীর কান্না,
হয়েছে একটি মেয়ে তাও পেত্নীর মত কালা।
তাইনা দেখে দাদীযে আমার ঘর ছেড়ে যায় দুঃখে।
প্রসবের পর অসুস্থ জননী দাড়াল তখন রূখে।
বলে-ও আমার বুকের মণি,আমি এখন বলি-
চাইনা আমি সাদা ইংরেজ, চাই কালো বাঙালী।
চারটি বছর ধুকেধুকে শিখি বসতে,দাড়াতে,হাটতে
শিখি বড়াল নামটি লিখতে আমি।
হঠাৎ একদিন শুনি বাবার মুখের একটি বাণী
যা,আজও পারিনা ভুলতে।
সূ্র্য্টিকে গিলে ফেলেছে বুনো রাক্ষসটিতে
গায়রে কাঁটা শিয়রে উঠে,জাপটে ধরি মাকে।
মা,,,, হারিয়ে গেল দামাল ছেলেটি ভালবাসি আমি যাকে।
আমি সিরাজকে দেখিনি, কাসিমকে দেখিনি,
দেখিনি তোমায় “মুজিবুর রহমান”।
দেখতে চেয়েছি বড়াল তোমায়, তুমিও দিলে জান।
ভয় নেই মুজিবের মত তুমিও থাকবে হয়ে চির অম্লান।
জানি, আগষ্ট মানে চেতনার কবি,আগষ্ট মানে রক্তের  নদী
আগষ্ট মানে হিংস্র জন্তুর খাওয়ার দাবি।
আগষ্ট মানে ইতিহাসের পাতায়া অঙ্কিত কিছু সোনালী ছাবি।
হঠাৎ বলল মা- ধরে রাখ একটি বানী,
কর একটি শপথ তুমি ।
ভুলবেনা কখনো তাকে যে,বুকের রক্ত ঢেলে
করেছে রঙিন সাধনার ভুমি
চাও প্রতিশোধ, চাও ধংস সেসবের
যেসব লুকিয়ে আছে খুনি।
অতপর, আমি শপথ নিলাম-
মা, আমি সেইদিন হব শাণ্ত, যেদিন বড়াল খুনিদের
কালো রক্তে রণ্জিত হবে ফাঁসির মঞ্চ |



"তোমার জন্য জায়গা আছে"



তুমি কখনো চাঁদ সূর্যের সমন্ময় দেখেছো?
দেখেছো তাঁদের উদয় অস্তের মিলনভূমি?
জানিতো দেখনি কারন ব্যস্ত তুমি......।
আচ্ছা তোমার পৃথিবীর উপাদান কি?
বলি....?
একটা সুবিশাল ফ্লাটে চারটে প্রানি,
একটা অফিস আর একটা গাড়ি।
ধর তুমিই তোমার শহড়ের রাজধানী।
যার হয়তো অনেক কাগজি নোট আছে -পকেটে,হাতে।
লাভ কি তাতে ..?
তোমার তুমিতে তুমি বলেতো কছু নাই,
আছে একটা নির্বোধ আর অজ্ঞ প্র্রানী।
প্রশ্ন জাগছে মনে ?কেন তুমিও যা জান আমিও তাই জানি?
আমি বলব না,,,,,,।
তুমি জেনেছ মুখস্ত করে আর আমি জেনেছি মুখোমুখী হয়ে।

তোমার আমার পর্থক্য জানবে?
কালো কাক সে তো তুমিও দেখো আমিও দেখি।
কিন্তু তামাটে কাক ? দেখনিতো জানি, শুনেছো কি এমন কোন পাখি ?
তুমি যখন তীব্র নিদ্রায় কোন বেকার ছেলের গরীব বাবার কাছে
 চাকরির দামে কগজি নোটের হিসাব নিচ্ছ....।
আমি তখন তামাটে পাখনার দুর্লভ কাকের সাক্ষাতে ব্যস্ত।
রহস্য কি তাঁর?
এই নিষ্ঠুর শহড়ের তীব্র সূর্যত্ত্বাপে তার মৌলিক রং ঝলসে গেছে?
নাকি চাঁদ-সূর্যের এই মিলন দিগন্তে ভেসে বেড়ানো তামাটে
মেঘগুলো পাখায় জড়িয়ে কাক সাম্রাজ্যের নেতৃত্ব চাইছে?
আমি জানিনা,তবে আগামী কোন ভোরে তাঁর সাক্ষাতের অপেক্ষা গুনব,
এ রহস্যের সমাধানে.....।

লাভ নেই বন্ধু তুমি আগামী দেড়শো বছর বেঁচেও সে কাকের সন্ধান পাবে না।
সে অধিকার তোমার নেই।
তুমি চাইলে তোমার কাগজি নোট ছড়িয়ে আরো এক ডজন সুন্দরী বউ পেতে পার,
আমার চোখের জলের প্রত্যক্ষ দর্শির সাক্ষাত নয়।
হ্যাঁ আমি দুখী,তাইত তুমি হীন আমি ধনী।
আমার ইচ্ছে আছে,কান্না আছে,চেতনা আছে,হাহাকার আছে।
নেই পেটে ভাত,রাতে ঘুম আর কালকের বাস ভাড়াটা।
যা নিদ্রামুক্ত করেছে মহারাত্রিতে এ নিস্তেজ দেহটা।

 ভোরের প্রথম আজান ধ্বনি আমাকে এনে ফেলে নিচ তালা থেকে পাঁচ তালার ছাদে,
এসেছিল পাখিটি আমার জিজ্ঞাসু চোখে বয়ে চলা জলকে খনিকের জন্য ঠেকাতে।
এরকম হাজারও অভিজ্ঞতা আমার চোখ থেকে মগজে স্থান নিয়েছে,
আর মগজের সে অশাব্দিক ভাষাগুলোকে কলমের কালিতে প্রান দিচ্ছি আমার এ চিঠিতে।
লাভ কি তোমায় প্রকৃতির এ রং ধনুতে রাঙিয়ে ?
তুমিতো সর্বভোলা ,,,,,,,,,।
তুমি তোমার আদর্শের ভুবন শৈশব ভুলেছো,
ইট পাথরের কৃত্রিম শহড়ে মায়ের ভালবাসাকে বিসর্জন দিয়েছো,
স্বার্থদোষী সু্ন্দরী বৌউয়ের বর্বরতায় নিজের ব্যক্তিত্ব হারিয়েছো।
এতো সম্পত্তির মালিক হলে চাকরি যবে,সব রেখেছো  স্ত্রী-পুত্রের হাতে,
যদি তোমাকে কোনদিন তোমার পৃথিবী ছাড়তে হয় এই অপরাধে ?
তবে আমাকে স্মরিও বন্ধু-
আমার সম্পত্তি নেই, আছে একখানি সম্পদ-"আমার ছেলে"
তাকেই পাঠাব তোমাকে আলিঙ্গন করতে।
আমার তৈরী পথশিশুদের আদর্শশালা আর বৃদ্ধাশ্রমে এসো,
তোমার জন্য জায়গা আছে..........।


Title...?




ক্যাম্পাসে ছয়-সাত বছরের একটা ছেলে দৌড়ে এসে বলল- আপা দুইটা চকলেট নেন, একটার দাম দুই টাকা । অনিচ্ছা সত্ত্বেও  নিলাম এবং পাঁচ টাকা দিলাম । আমাকে এক টাকা ফেরত দিতে আসলে, আমি বললাম রেখে দাও । সে বলল, '' আপা আমি তো ভিক্ষা করি না, চকলেট বিক্রি করি'' ।
এ পথ শিশুর মূল্যবোধের কাছে আপনার সভ্য সমাজ কতখানি হেরেছে.....?




























Sleeping True


Related image




আমি তোমার পৃথিবীবাসী, সেই অধিকারে বলছি  --- লাভ কী ,স্বার্থবাদী এ ভালবাসার পিছনে জীবনের অপচয়ে ? 
বরং লালন কর তোমার মানবতা, স্বীকার কর দায়বদ্ধতা আর প্রয়োজনে মুখোমুখী হও বর্বরদের ।
তুমি তোমার প্রতি তোমার প্রিয় জনদের যে ভালবাসা, সমবেদনা আর প্রেম দেখতে পাও, তার অনেকটাই তোমার চোখের ভ্রম । বস্তুত পৃথীবিতে কারো সাথে তোমার কোন স্থায়ী সম্পক নেই, আত্মীয়তা সময়ের সংস্কার মাত্র, কালের স্রোতে তা ধুয়ে মুছে যাবে । আজ আছ কোন বাড়ির মেয়ে, পরশু হবে আত্মীয়া, তারপর কোন একদিন বাড়ির পুরোনো আসবাব পত্রের মত তুমিও হারানো অতীত হয়ে  যাবে................ ।

Tuesday, May 29, 2018

Calling

তুমি যদি আমাকে হিংসা কর,
তবে নিজেকে জ্ঞানী ভাববার স্পর্ধা নেই,
বরং আমার বন্ধু মূর্খ জেনে দুঃখ পাব ।
কারো হিংসা অর্জন সামর্থ্যের প্রশ্ন।
তুমি যে আমার ক্ষুদ্র জ্ঞাণে শঙ্কিত
আর তোমার মূর্খতায় নিশ্চত ,
সেটা হবে আমার প্রত্যাশার দুঃসপ্ন ।
কেননা, আমি যে জ্ঞানীর সান্নিধ্যে,
 জ্ঞান লাভে অপেক্ষমান কাঙাল ।

 তুমি যদি আমাকে ঘৃনা কর,
 তবে স্বীকার কর -তোমার দেহে মন নেই ।
 আমার আল্লাহ যাকে সুন্দর একটা মন দেয়নি,
 তার বুদ্ধির ভাড়েও নিশ্চই কানাকড়ি রেখেছেন,
আর সে কানাকড়ি দিয়ে তুমি আমার কিছুই করতে পারবে না ।

তুমি যদি কোনদিন আমার সাথে অহিংস প্রতিযোগিতায় নামো,
তবে জানব তুমি আমার ক্ষুদ্র সামর্থ্যকে অভিবাদন জানিয়ছো ।
এই প্রতিযোগিতার বিশ্বে আমায় সহযোগিতার হাতছানি দিচ্ছ ।
তখন এক পৃথিবী ভরসা নিয়ে না হয় পাশাপাশি চলব।
তুমি তোমার ঘৃণা ,হিংসা আর অহংকার বিসর্জন দাও,
আমি তোমার বন্ধু হব ।
                                                                        ---আজিনুর


Question

                                  

মানবতা আজ তুমি প্রশ্নের মুখোমুখী।
তোমার জীর্ণ চরিত্রের ছদ্ম আভিজাত্যে আজ,
বিদ্রুপাত্মক প্রশ্ন আমার - কী তুমি?
পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ছো?  কে আমি ?
শোন  তবে আমার অন্তর্নীল কাহিনি-
আমি সারা পৃথীবির অমানবিকতায় ঝলসে ওঠা এক বিধ্বস্ত ইতিহাস।
আমি তোমার দেশের অগনিত বৃদ্ধ অক্ষম বাবার অসহায় দীর্ঘশ্বাস।
আমি ৭১ এর রক্তস্রোতে ভেসে উঠা,
লাশ স্তুপে জমা পড়া এক আহত শিশু।
সেদিন  অনেক শিশু আমার অবুঝ চোখের সামনে,
কপালে লাল-সবুজের পতাকা এঁকে হেসেছিল স্বাধীনতা বলে।
 আর আমি-
মিলিটারির জিপে ছিড়ে থাকা মায়ের শাড়ির টুকরো কুড়িয়ে
কেঁদেছিলাম সাধীনতা বলে।
আমি তোমার ঘরের নির্যাতিতা কোন এক গৃহবধুর নিরব আর্তনাদ।
আমি তপ্ত দুপুরে তরুহীন মরুমাঠের এক ক্ষুধার্ত কৃষক।
আমি ফুটপথে বসে থাকা কোন কঙ্কাল দেহের পলকহীন চাহনি,
আর বৃদ্ধাশ্রমে ফেলে রাখা কোন ধনকুবের বাবার অতীত কাহিনি।
আমি কোন কিশোরি মেয়ের শরীরে জড়ানো বিধবার শাড়ি।
 আমি স্বাধীন দেশে, আমার স্বদেশী ভাইয়ের হাতে এক লাঞ্চিত  নারী।
আমি কোন ব্যাভিচারিনী মায়ের সদ্য জন্মজাত এক পাপিষ্ট মাংসপিন্ড।
আর তাঁর উন্মাদ পিতার অত্যাচারে আজ সে অগ্নিদগ্ধ।

আমি আমার ক্ষুধার্ত গর্ভবতী মায়ের পেটে অনাহারী,অস্পষ্ট শিশু।
আমি কন্যাদায়গ্রস্থা কোন ভূমিহীন পিতার অদৃশ্য ক্ষত।
আমি ফুটপথে শুয়ে থাকা কোন অবুঝ বালকের বস্ত্রহীন শরীরে আঘাতের চিহ্ন।
আর অন্ধকারে ভেসে আসা স্বজনহারা কোন দূর্ভাগা কিশোরীর মূল্যহীন আত্মচিৎকার।
আমি এক বৃদ্ধ পিতার বেকার ছেলের অক্ষমতার গ্লানি।
আর পিতৃহীনা কোন অবুঝ বালিকার চোখে পিতার জন্য অপেক্ষার চিঠি।
আমি তোমার হাতে লান্চিত এক কিশোরীর কন্ঠে মৃত্যুর জন্য আকুতি।
আমি বাঁচার জন্য লড়া এক গার্মেন্টস্ কর্মী ।
আমি মানবতার স্বপ্ন খুনের রক্তে ভাসা এক লৌহমানবী ।
 অতপরঃ-
তুমি আজ প্রশ্নের মুখোমুখী, কী তুমি?
                                                                               - আজিনূর,

কাহিনী,লাশ, কুড়িয়ে, স্বাধীনতা, দুপুরে, কাহিনী, লাঞ্চিত,ব্যভিচারিণী, অগ্নিদগ্ধ, ভূমিহীন, লড়াকু, গার্মেন্টস, লৌহমানবী, মুখোমুখী

Monday, May 28, 2018

"Gain by Sacrifies"

Image may contain: one or more people and outdoor
অনেক দিন আকাশটা ভারি ,গোলাপী বিলের হাঁসগুলো ছিল নিরানণ্দ ,দখিনা বাতাশ কেমন নিস্তেজ কেঁদে যেত ,ঘাঁস ফড়িং এর ডানায় ডানায় বিষণ্ণতা আর সেই বিষণ্ণতার বাঁধ উড়িয়ে অবশেষে লালে টুকটুকে স্বাধীনতা এল ..........তখন আকাশে দেখা দিল হালকা আকাশি রং ,গোলাপী বিলের হাসগুলো খুশিতেে খলবল করে উঠল ,দখিনা দিগণ্তে আগমণি আলতোো বাতাশে ভেসে একটা স্বধীন ঘাঁস ফড়িং অনেক দূর চলে গেল নাচতে-নাচতে
Image may contain: one or more people

"Unknown Story"

জ্যামের ভিড়ে ছুটে আসা বালকটি ময়লা হাতে মুখের ঘাম মুছতে মুছতে বলল -দিদি নেন না দুইটা লুছনি,ভাত খাব । বললাম নাম কি তোর ? বলে- টেম্পু ।
কি ? বলল- হয় ,আমি যখন পয়দা হব, তখন এটটা টেম্পু আসে আমার মারে ধাক্কা মারলো ।আমি তো আগেততে পয়দা হয়ে গেইছি, খালি মার জানডা নিয়া গেল । তাই নাম হইছে টেম্পু । বুঝলাম না যে বস্তুটা ওর মাকে কেড়ে নিল,তার নামে নাম ? এটা কি কৃতজ্ঞতা, না অসহায়তা ?
জানতে চাইলাম- বয়স কত তোর ? বলল- কত আর হবে, হবেনে ১০ ,১৩. 
হাসলাম ,বললাম - ১০,১৩ র তফাত জানিস ? বলল- জানব ক্যামনে ,আমি কি আর স্কুলে পড়ি। আচ্ছা এই যে বাচ্চারা মায়ের সাথে রিক্সা করে স্কুলে যাচ্ছে, দেখে তোর মন খারাপ হয় না, ইচ্ছা হয়না এভাবে যেতে ? সত্যি কই দিদি- আমার স্কুলি যাতি মন চায় না , দেখে মন চায় মার হাত ধরে হাঁটি ........................................ আর তাঁর জন্য কাঁদি .........................................................।

"Society....?"

সাল ১৯৭৩, খেটে খাওয়া নিম্নশ্রেনীর কৃষক পরিবারের মেয়ে আসমার চরিত্র -ব্যাবহারে আভিজাত্য থাকলেও জন্মকৌলিন্যের অভাবে কাজে যেতে হত জমিদার বাড়িতে । পেটে ভাত ছিল না , মুখে জোর ছিল না ,তাই হয়তো গোটা অন্দরমহলের কেউই সেদিন তাঁর আর্তনাদ শোনেনি ।
চার-পাঁচ মাস পর আসমা বুঝতে পারে তাঁর প্রতি শ্রোষ্টার অবিচারের মাত্রা কতখানি। এটা আকবরের নেশা, সে কেন আসমা আর তার সন্তানকে মেনে নেবে । মানুষের মন্তব্য আর বিবেকের কাছে হেরে আকবরের বাবা আজমল জমিদার বিয়ের দিন রাখে ২২ আগষ্ট। অভাগা যেখানে যায়,সাগর শুকিয়ে যায়। বিয়ের পিড়িতে আসমা শুনতে পায়-দূঘটনায় আকবর নিহত । আর আসমা শেষ পরিনতি নেয় আত্মহত্যা ।
 এটাই কি শেষ .........................?
অসুস্থ আসমাকে হাসপাতালে নিয়ে ,পেটের ৭ মাসের বাচচাটি বের করা হয় ,পৃথিবীর বুকে জন্ম নেয় এক পরিচয়হারা শিশু ।

আর আকবর ? কোনভাবে সে সেদিন বেঁচে যায়.....................................................। জমিদার বাড়ি সেদিন তাঁদের ছেলেকে পেয়েছিল ,কিন্তু ক্ষনজন্মা এ শিশু কি তাঁর পরিচয় পেল ? আজ বহু বছর পরে , মৃত্যু পাড়ে দাড়িয়ে আকবর তার পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে চায় ।
আমাকে পাঠিয়েছে আজ সে তার মেয়েকে অপকর্ম ছেড়ে , সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে । আমি ওর মেকাপ ঘরে গিয়ে হাত ধরে বলেছিলাম- ফিরে আয় মা, এ ঘরে শুধুই কলঙ্ক ।
ও হাতটা না সরিয়ে, অন্য হাতটা আমার হাতের উপর রেখে, শান্ত কন্ঠে বলল- ''তুমিই বল ,আমি এ কলঙ্কের যোগ্য কিনা আজ ''....?  
তোমরা তোমাদের জমিদারকে গিয়ে বল- আমি বা আমার মত মেয়েরা যদি কলঙ্কিনি হই, তবে সে বা তারা এ কলঙ্কের কর্নধর। তাঁরও তো শয্যায় আসে বহু পত্নি, দেবী ধত্রীলোক ।সে যে নিয়মে থাকে, সে নিয়মের অধিকার আমার ও থাকুক ।
তাকে বলে দাও- তারা যে গ্র্রন্থের রচয়িতা তা আমরা উল্টে দিতে পারি । কি বুঝাবে আমাকে , এ সমাজের ছইপাস বিধিনিষেধের একটি বঙ্কিম প্রশ্ন আমি ...। 
তুমি যখন এসেছ ,শোন - আমার কোন পূরুষ নেই, বন্ধু নেই, পিতা বা ভ্রাতা নেই, আমার কোন সমাজ নেই, পায়ের তলায় মাটি নেই ,শ্রষ্টা সেও নেই, ছিলো না সেই দিন.....ধিক আমার জন্ম নেওয়ার দুঃখ ইতিহাসে ।
বলার মত বাক্য পাচ্ছিলাম না , তবু জোর করে যখন বলতে গেলাম-দেখো মা এ সমাজ......।
বলতে দিল না ও , কথা কেড়ে নিয়ে বলল- 'কাকে বলে সমাজ '?
আমি নিঃশব্দে পালিয়ে এলাম , আমার কাছে সমাজের সজ্ঞা ছিল না.......।


Friday, May 25, 2018

"Poricoy"

    আর্তমানবতার নিদারুন হাহাকার আর তাঁর খন্ডিত রক্ত-মাংসের উপর আভিজাত্যের নিশানা উড়ানোই যদি
    সভ্যতা নামের নির্মম বর্বরতা হয়, তবে অসভ্যতাই হোক আমার চির পরিচয় ।.

প্রিয় আরিয়ান

প্রিয় আরিয়ান, তোমার লিখতে শেখার প্রতিক্ষায় আমি, একটি ডায়েরি দেবো বলে। সুখেও আমার কান্না ঝরে, তোমায় ভালবেসে। একুশ শতকের আজক...