সাল ১৯৭৩, খেটে খাওয়া নিম্নশ্রেনীর কৃষক পরিবারের মেয়ে আসমার চরিত্র -ব্যাবহারে আভিজাত্য থাকলেও জন্মকৌলিন্যের অভাবে কাজে যেতে হত জমিদার বাড়িতে । পেটে ভাত ছিল না , মুখে জোর ছিল না ,তাই হয়তো গোটা অন্দরমহলের কেউই সেদিন তাঁর আর্তনাদ শোনেনি ।
চার-পাঁচ মাস পর আসমা বুঝতে পারে তাঁর প্রতি শ্রোষ্টার অবিচারের মাত্রা কতখানি। এটা আকবরের নেশা, সে কেন আসমা আর তার সন্তানকে মেনে নেবে । মানুষের মন্তব্য আর বিবেকের কাছে হেরে আকবরের বাবা আজমল জমিদার বিয়ের দিন রাখে ২২ আগষ্ট। অভাগা যেখানে যায়,সাগর শুকিয়ে যায়। বিয়ের পিড়িতে আসমা শুনতে পায়-দূঘটনায় আকবর নিহত । আর আসমা শেষ পরিনতি নেয় আত্মহত্যা ।
এটাই কি শেষ .........................?
অসুস্থ আসমাকে হাসপাতালে নিয়ে ,পেটের ৭ মাসের বাচচাটি বের করা হয় ,পৃথিবীর বুকে জন্ম নেয় এক পরিচয়হারা শিশু ।
আর আকবর ? কোনভাবে সে সেদিন বেঁচে যায়.....................................................। জমিদার বাড়ি সেদিন তাঁদের ছেলেকে পেয়েছিল ,কিন্তু ক্ষনজন্মা এ শিশু কি তাঁর পরিচয় পেল ? আজ বহু বছর পরে , মৃত্যু পাড়ে দাড়িয়ে আকবর তার পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে চায় ।
আমাকে পাঠিয়েছে আজ সে তার মেয়েকে অপকর্ম ছেড়ে , সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে । আমি ওর মেকাপ ঘরে গিয়ে হাত ধরে বলেছিলাম- ফিরে আয় মা, এ ঘরে শুধুই কলঙ্ক ।
ও হাতটা না সরিয়ে, অন্য হাতটা আমার হাতের উপর রেখে, শান্ত কন্ঠে বলল- ''তুমিই বল ,আমি এ কলঙ্কের যোগ্য কিনা আজ ''....?
তোমরা তোমাদের জমিদারকে গিয়ে বল- আমি বা আমার মত মেয়েরা যদি কলঙ্কিনি হই, তবে সে বা তারা এ কলঙ্কের কর্নধর। তাঁরও তো শয্যায় আসে বহু পত্নি, দেবী ধত্রীলোক ।সে যে নিয়মে থাকে, সে নিয়মের অধিকার আমার ও থাকুক ।
তাকে বলে দাও- তারা যে গ্র্রন্থের রচয়িতা তা আমরা উল্টে দিতে পারি । কি বুঝাবে আমাকে , এ সমাজের ছইপাস বিধিনিষেধের একটি বঙ্কিম প্রশ্ন আমি ...।
তুমি যখন এসেছ ,শোন - আমার কোন পূরুষ নেই, বন্ধু নেই, পিতা বা ভ্রাতা নেই, আমার কোন সমাজ নেই, পায়ের তলায় মাটি নেই ,শ্রষ্টা সেও নেই, ছিলো না সেই দিন.....ধিক আমার জন্ম নেওয়ার দুঃখ ইতিহাসে ।
বলার মত বাক্য পাচ্ছিলাম না , তবু জোর করে যখন বলতে গেলাম-দেখো মা এ সমাজ......।
বলতে দিল না ও , কথা কেড়ে নিয়ে বলল- 'কাকে বলে সমাজ '?
আমি নিঃশব্দে পালিয়ে এলাম , আমার কাছে সমাজের সজ্ঞা ছিল না.......।
চার-পাঁচ মাস পর আসমা বুঝতে পারে তাঁর প্রতি শ্রোষ্টার অবিচারের মাত্রা কতখানি। এটা আকবরের নেশা, সে কেন আসমা আর তার সন্তানকে মেনে নেবে । মানুষের মন্তব্য আর বিবেকের কাছে হেরে আকবরের বাবা আজমল জমিদার বিয়ের দিন রাখে ২২ আগষ্ট। অভাগা যেখানে যায়,সাগর শুকিয়ে যায়। বিয়ের পিড়িতে আসমা শুনতে পায়-দূঘটনায় আকবর নিহত । আর আসমা শেষ পরিনতি নেয় আত্মহত্যা ।
এটাই কি শেষ .........................?
অসুস্থ আসমাকে হাসপাতালে নিয়ে ,পেটের ৭ মাসের বাচচাটি বের করা হয় ,পৃথিবীর বুকে জন্ম নেয় এক পরিচয়হারা শিশু ।
আর আকবর ? কোনভাবে সে সেদিন বেঁচে যায়.....................................................। জমিদার বাড়ি সেদিন তাঁদের ছেলেকে পেয়েছিল ,কিন্তু ক্ষনজন্মা এ শিশু কি তাঁর পরিচয় পেল ? আজ বহু বছর পরে , মৃত্যু পাড়ে দাড়িয়ে আকবর তার পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে চায় ।
আমাকে পাঠিয়েছে আজ সে তার মেয়েকে অপকর্ম ছেড়ে , সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে । আমি ওর মেকাপ ঘরে গিয়ে হাত ধরে বলেছিলাম- ফিরে আয় মা, এ ঘরে শুধুই কলঙ্ক ।
ও হাতটা না সরিয়ে, অন্য হাতটা আমার হাতের উপর রেখে, শান্ত কন্ঠে বলল- ''তুমিই বল ,আমি এ কলঙ্কের যোগ্য কিনা আজ ''....?
তোমরা তোমাদের জমিদারকে গিয়ে বল- আমি বা আমার মত মেয়েরা যদি কলঙ্কিনি হই, তবে সে বা তারা এ কলঙ্কের কর্নধর। তাঁরও তো শয্যায় আসে বহু পত্নি, দেবী ধত্রীলোক ।সে যে নিয়মে থাকে, সে নিয়মের অধিকার আমার ও থাকুক ।
তাকে বলে দাও- তারা যে গ্র্রন্থের রচয়িতা তা আমরা উল্টে দিতে পারি । কি বুঝাবে আমাকে , এ সমাজের ছইপাস বিধিনিষেধের একটি বঙ্কিম প্রশ্ন আমি ...।
তুমি যখন এসেছ ,শোন - আমার কোন পূরুষ নেই, বন্ধু নেই, পিতা বা ভ্রাতা নেই, আমার কোন সমাজ নেই, পায়ের তলায় মাটি নেই ,শ্রষ্টা সেও নেই, ছিলো না সেই দিন.....ধিক আমার জন্ম নেওয়ার দুঃখ ইতিহাসে ।
বলার মত বাক্য পাচ্ছিলাম না , তবু জোর করে যখন বলতে গেলাম-দেখো মা এ সমাজ......।
বলতে দিল না ও , কথা কেড়ে নিয়ে বলল- 'কাকে বলে সমাজ '?
আমি নিঃশব্দে পালিয়ে এলাম , আমার কাছে সমাজের সজ্ঞা ছিল না.......।

No comments:
Post a Comment