Thursday, October 17, 2019

নারী

সৃ্ষ্ট পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ নির্বোধ আর মূর্খ প্রানী,
সবচাইতে স্বার্থপর, অন্ধ আর আত্মঘাতী তুমি।

আর আমরা নারী।
বলতে পারো, তোমারই আবেদনী প্রার্থনায়
তোমা হতেই উথিত এক অদ্ভুত বিষ্ময়াতীত সৃষ্টি!

যে তাঁর অহেতুক আবদারে
খোলা সমুদ্রে তোমার জীবন নিয়ে খেলবে।

আবার বেহূলা হয়ে তোমারই প্রেমে
আমৃত্যু পদ্ম হয়ে জলে ভাসার শপথে হারাবে।
যাঁর আড়ম্বরী আদিক্ষেতায় তোমায়
রোবসপিয়ারের গিলোটিনে চড়াবে।

যাঁর আবেদনী প্রেমে তুমি ভারত ভূখন্ডে
প্রকৃত প্রেমের কৃত্রিম সমাধি জাগাবে।

যে আরও শত রবিকে রবীন্দ্রনাথ,
আর দুখুমিয়াকে নজরুল বানাবে !

আমি মেঘের কোলে চমকে যাওয়া সামান্য বিদ্যুতের কথা বলছি !
তবে এটাই গোটা ভারতভূমি না।
আমি বলছি যে অনন্যার কথা !
তুমি জানো- তাঁর অপর নাম দরিদ্রতা !

তোমাদের প্রেম মুষ্ঠির ভিক্ষাপাত্র হয়ে,
তোমাদের ভাষায়,কাল থেকে মহাকাল
শুধু উপযোগ মেটাতেই যাঁর জন্ম হয়েছে।

রাতের জগৎ উর্ধ্ব চিৎকার আর
দিনে যাঁর নুপুরের জাগ্রত ধ্বনিতে,
তোমাদের বাদশাহী বাংলো গড়ে ওঠে।

ভরা সমাজে পণ্যের মতো দেখে,
ধূসর সার্টিফিকেটে মূড়ে আবার যাকে ঠেলে দাও অন্দর মহলে।

মহামানবের দিব্যি অভিনয়ে,
চায়ের আড্ডায় ডেকে,
শুধু সাদা কাগজের চিঠির ভাঁজ উপহার দাও যাঁকে।

রাতের নীরব অন্ধকারে পশু শক্তির যথেচ্ছা ব্যবহার শেষে,
আবার দিনের আলোতে যাঁর সতীত্বহীনতার বিচারে বসো।

পড়ন্ত বিকেলে বিধবার শরীরে রংহীন থান জড়িয়ে দিয়ে,
রাতেই আবার সেটা কেড়ে নোংরা রঙিন স্বপ্ন দেখাতে আসো।

কুমারির গর্ভে অসম্মান রেখে,
মহাসমারোহে আরেক নারীর অপমান রচিতে ছুট ।

তোমরা পুরুষ, তোমরা সমাজপতি।
অসম্মানের সীমা লঙ্ঘন করো না।
এ বিশ্ব সমাজের অর্ধেক নারী।
দোহাই তোমাদের.
তাহাদের আলাদা জাতি পরিচয়ের ইঙ্গিত দিও না।
কালী, মহাকালী আর দেবী, মহাদেবী এ সমাজের
অমোঘ মাতৃত্ব ভুলো না।
তাঁর গর্ভ বিনা এ পৃথিবীতে ,
তোমাদের আগমনী অস্তিত্ব পৌঁছবে না।

এমন কোনদিন না আসুক ,
যেদিন গোটা বিশ্ব নারী সত্ত্বা এক হয়ে,
তোমাদের অবাধ অসম্মানের কাঁটা দিয়ে,
তোমাদেরই উপরে ফেলা হবে।
আর পাল্টা প্রতিবিপ্লবী আর কোন পুরুষ অভিযান,
ভয়ংকর হওয়ার আগেই তোমাদের উত্তরসূরীদের
শিশু সমাধি রচিত হবে।
লালিত হবে শুধু নারী তনয়া।
সংখ্যাগিষ্ঠতার দাড়ি-পলায়,
দুই-তৃতীয়াংশ অথবা তাঁরও অধিক নারী উথানে,
 তোমরা সেদিন অনেক নিচে পড়ে যাবে।
আর সমাজপতির শোষন দন্ড কেড়ে,
নারী সেদিন নতুন সমাজ গড়বে।
যে শুধু তাঁর পছন্দের পুরুষকে বেছে নিয়ে,
বাকি তোমাদের ক্ষুধার্ত শরীরের ওপর
শুধুই অজস্র অপবাদ চাপানোর নেশায় মাতবে ।
আর তোমরা অন্যায় গর্ভজাত নারীর যেকোন সন্তানের
মিথ্যা দায় নিয়ে আমৃত্যু অর্থনীতিতে
ক্রীতদাস হয়ে থাকবে।
আর তোমাদের শরীরের মাংসমূল্যের দামে,
শহরে শহরে সেদিন বেগমী বাংলো গড়ে উঠবে।

সেদিনের সেই মুজুরিবিহীন আমৃত্যু শ্রমিক সমাজ,
তোমারা চাইলে নিশ্চই মানবাধিকার নিয়ে কবিতা লিখতে পারবে।
সে অধিকার রাখা হবে।
তবে মনে রেখ,
জাগ্রত নারী মহল উঁচিয়ে,
তোমাদের পুনঃউথান অসম্ভব।
সৃষ্টির ইতিহাসে পৃথিবী নিয়ন্ত্রনের যে মহান মাতৃত্ব,
দেওয়া হয়েছে নারীকে।
সে উর্বরতার ইতিহাস রুদ্ধ করতে,
বড়জোর তোমরা বোমা ফেলতে পারো আকাশ থেকে।
কিন্তু অবধারিত কেয়ামতের মহাপ্রলয় ছাড়া
সে অধিকার আমরা ছাড়বো না !

আমি ৫০০, ১০০০ বা সহস্রাধিক পরের কথা বলছি...
মানুষের খামখেয়ালিতে যখন একদিন
এই অক্সিজেনবিহীন পৃথিবীতে মানুষ শুধু
কার্বন-ডাইঅক্সাইড খেয়ে মরবে।
আর সেই মৃত-ভস্ম দেহের জৈব ভূমিতে
দিগন্ত বিস্তৃত ছেদহীন আকাশের নিচে
বৃক্ষ সমারোহের সবুজ মহাসাগর ছুটবে

তবে হে মানুষ বনাম পুরুষ,
আজও আমরা তোমাদের জন্য।
আমরা ২য় বিশ্বযুদ্ধের পর পৃথিবী ব্যাপী উপনিবেশবাদের অবসান,
কিংবা ফরাসি বিপ্লবের পর রাজতন্ত্রের যবনিকা পতন চাই না।
আমরা নারী।
শরীরে সৃষ্টির আনন্দ নিয়ে
বিধ্বংসী বিপ্লব খুঁজি না।
তোমরা শুধু অসভ্যতার সীমা লঙ্ঘন করো না।
মূর্খতার আত্মঘাতী আফিম ছেড়ে পৃথিবীটাকে বাসযোগ্য রাখ ।
আর গ্রেটা থুনবার্গের চোখের ভাষায় অস্তিত্ব রক্ষার সংকল্পে জাগো....
আগাম অভিবাদন তোমাদের।

No comments:

Post a Comment

প্রিয় আরিয়ান

প্রিয় আরিয়ান, তোমার লিখতে শেখার প্রতিক্ষায় আমি, একটি ডায়েরি দেবো বলে। সুখেও আমার কান্না ঝরে, তোমায় ভালবেসে। একুশ শতকের আজক...