আমি সে কুটিরের কৃষ্ণকুমারী।
কোনটাই আমার নাম নয়।
কুমারী আমার পদবী,
আর কৃষ্ণ সঞ্চিত মজুরি।
যাঁর শৈশব উড়ে গেছে
রৌদ্র দগ্ধ শুষ্ক বাতাশের ঝাপটা দাপটে।
কৈশরে যাঁর খিল খিল হাসিতে
যমুনার বুকে ভাসা যুবকের মুখে
উঠতো শ্বেত মল্লিকার অলংকার জেগে।
সে হাসিতে আমি ভাসিনি।
গহীনে সে অদূরের বাল্যবেলায়
ভেসেছিলাম বাউলের একতাঁরায়।
তোমাদের লোকগাঁথার আধুনিকতায়
কৃষ্ণকে যদি সুর দেবতা বানাও
তবে আমাকেও ভাগ দাও।
হাসতে আর কাঁদতে মানা থাকলেও
দুঃখ আমায় আজন্ম সুর দিয়েছিল।
জন্মবেলায় যমুনার স্রোত উঁচিয়ে
যাঁর চিৎকার সুরেই নাকি দূর সমুদ্রে
বাবা হারিয়েছিল না ফেরার শপথে।
আর আমার একাকিনী মাকে
পরের মাঠে শ্রম ছেড়ে,
পরের মাঠে শ্রম ছেড়ে,
অনাহারে কাঁদতে দেখেছি আমার পাশে।
নাড়ী ছিড়ে খন্ডিত হলেও
তাঁর অসহায় দীর্ঘশ্বাস কাঁচা নাভি চিরে
ঠিক হৃৎপিন্ডে পৌঁছে যেত।
ঠিক হৃৎপিন্ডে পৌঁছে যেত।
তাইতো দিনের আলোতে
মিথ্যা ঘুমের সত্য অভিনয়ে বিজয়িনী আমি
কাজ শেষে মায়ের ফেরার শব্দে,
চোখ খুলে হাসতাম আমাদের ছোট্ট কুটিরে।
আর একটু বড় হলেই,
দিনের আলোতে শরীরে খন্ডিত আঁচল জড়িয়ে
দুই ক্রোশ পাড়ি দিয়েছি আমি অন্ধকার পৃথিবীতে।
সেবেলায় শুধু সুরের সূরাপানেই
আমার শ্রম শরীরের ক্লান্তি ফুরাতো
মহাকালের শূন্য গহবরে।
দিন শেষে আমার সামান্য মজুরি মূল্যে
দিব্যি রাত কেটে ভোর নামতো পৃথিবীর মাঠে।
কিন্তু নারী শ্রমের তুচ্ছ মূল্যে
দুটো বিবস্ত্র শরীর শুধু ভাত ই পেয়েছে।
জীর্ন কুটিরে একজনকে শূন্য দেহে রেখে,
অপরজন ছুটেছি তাই জমিদারী বাগানে।
এক সন্ধ্য়ায় সাহেবী করুনায় শাড়ি হাতে ফিরি কুটিরে।
ফিরে এসে শুনি-
ধ্বসে পড়া কুটিরে পুরুষ ধ্বনি !
মা বলেছিল বাবার মত সুর পেয়েছিস ।
তবে কি আজ বাবাকেও পেয়েছি ?
বললাম তুমি কি আমার বাবা ?
আমি কৃষ্ণকুমারী।
কোনদিন কাঁদিনি।
তোমাকে ধরে কাঁদতে চাই ।
আসবে কি ?
আসেনিতো ! কুটির ভেঙে শুধু আদেশ এসেছিল,
সাঁতার না জানলে যমুনায় ডুবে মর।
সে রাতের যমুনাস্রোত আমার সমাধি আঁকেনি।
শুধু খানিক দূরে নির্বাসনে টেনেছিল।
এক মাছ মালিকের দাড় ঘেঁষে দাড়ালাম।
বালক কৃষ্ণ আমি।
ভাত দেবে ?
কাজ জানি।
স্বল্পভাষী সে তুলে নিল জাহাজে।
তাঁরপর ঢাকার পথে।
ছেলেদের দুটো প্যান্টও দিয়েছিল সে।
সম্ভবত কিনে।
তাঁরপর আড়ালে পড়ে নিয়ে,
ঢাকার রাস্তায় জ্যামের মহামারিতে,
ক্লান্ত শহরের মাঝপথে,
নিরবে হারিয়ে যাই শাহবাগের ফুটপাতে।
আর সেই থেকে আজ অব্দি
সোহরাওয়ার্দীর বস্তিতে কৃষ্ণকুমারী আজ
ফুলের ডালি হাতে।
ফুল হাতে শাহবাগ, টি.এস. সি. কিংবা রমনার মাঠে
তোমরা আমাকে প্রতিদিনই দেখো।
তবে এ ফুল কাননীর কাছে
তোমাদের পঠিত কৃষ্ণকুমরী
আজও হার মানেনি।
ছেলেবেলায় বাবার গায়ের রং পেলেও
জমিদারী মাঠে দৈনিক মজুরীর সাথে
মুখে, পিঠে যে কৃষ্ণ আস্তরন জমেছিল।
তোমাদের এই ঘোলাটে শহরে তা অনেক বেশী স্পষ্ট।
আজও এ কুমারী যে আয় পায়,
তা সোহরাওয়ার্দীর মাঠে ভাগ হয়ে যায়।
সাথে বেড়ে ওঠা এ নোংরা বস্তিতে
রাতের অন্ধকার, কখনো বা দিনের আলোতে
কৃষ্ণকুমারীও ভাগ হয়ে যায় বহু ভাগে।
পৃথিবীর পথে হাঁটতে হাঁটতে
তোমাদের ব্যস্ত শহরের হলুদ আলোতে,
আমি অনেক বেশি ক্লান্ত ।
তোমাদের জগতে আমাদের কেন জন্ম হয় বলতে পারো ?
ফুল হাতে আমাদের উপস্থিতিতে
তোমাদের প্রেম, কখনোবা নোংরা প্রেম,
মানবতারও উর্ধ্বে ওঠে !
আর তাই তোমাদেরই উচ্ছিষ্ট খাবারে ভাগ বসিয়ে,
রাস্তা কিংবা ভাগারে "মানুষে-কুকরে আজও বাঁচার লড়াই চলে"।
তাঁরও বাইরে পথ পুরুষের শত নোংরা দৃষ্টিতে
আমরা প্রতিদিনই ঝলসে যাই,
ঝলসে যায় আমাদের দেহ।
তবু সে দেহে কেন প্রান রেখে বাঁচতে চাই জানো?
মৃত্যুতে ভীষন ভয় !
এতো বড় পৃথিবীতে
একদিন তোমাদেরই কেউ বলবে,
প্রানহীন এ দেহের দাবিদার কে?
কোথাও কেউ নেই।
পর আর স্বার্থপরের পৃথিবীতে,
সেদিনের পরম সত্য-
বহুদর পর্যন্ত শেয়াল-কুকরের মত,
সোহরাওয়ার্দীর বস্তি থেকে বহুদূর পর্যন্ত,
প্রানহীন এ দেহের দুর্গন্ধ ছুটে যাবে।
আর তোমরা নাকে সুগন্ধি টিস্যূ মুড়িয়ে
ভীষন টোয়েন্টি সামথিং এর সফল বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে
আনন্দিত বক্তিতায় টেবিল ভেঙে ফেলবে।
তবে তাই হোক,
তোমরা বিশ্ববিবেক ফাঁকি দিয়ে তোমরা প্রগতির মঞ্চ কাঁপিও।
আমরা নিরবে হারাবো।
ফিরে এসে শুনি-
ধ্বসে পড়া কুটিরে পুরুষ ধ্বনি !
মা বলেছিল বাবার মত সুর পেয়েছিস ।
তবে কি আজ বাবাকেও পেয়েছি ?
বললাম তুমি কি আমার বাবা ?
আমি কৃষ্ণকুমারী।
কোনদিন কাঁদিনি।
তোমাকে ধরে কাঁদতে চাই ।
আসবে কি ?
আসেনিতো ! কুটির ভেঙে শুধু আদেশ এসেছিল,
সাঁতার না জানলে যমুনায় ডুবে মর।
সে রাতের যমুনাস্রোত আমার সমাধি আঁকেনি।
শুধু খানিক দূরে নির্বাসনে টেনেছিল।
এক মাছ মালিকের দাড় ঘেঁষে দাড়ালাম।
বালক কৃষ্ণ আমি।
ভাত দেবে ?
কাজ জানি।
স্বল্পভাষী সে তুলে নিল জাহাজে।
তাঁরপর ঢাকার পথে।
ছেলেদের দুটো প্যান্টও দিয়েছিল সে।
সম্ভবত কিনে।
তাঁরপর আড়ালে পড়ে নিয়ে,
ঢাকার রাস্তায় জ্যামের মহামারিতে,
ক্লান্ত শহরের মাঝপথে,
নিরবে হারিয়ে যাই শাহবাগের ফুটপাতে।
আর সেই থেকে আজ অব্দি
সোহরাওয়ার্দীর বস্তিতে কৃষ্ণকুমারী আজ
ফুলের ডালি হাতে।
ফুল হাতে শাহবাগ, টি.এস. সি. কিংবা রমনার মাঠে
তোমরা আমাকে প্রতিদিনই দেখো।
তবে এ ফুল কাননীর কাছে
তোমাদের পঠিত কৃষ্ণকুমরী
আজও হার মানেনি।
ছেলেবেলায় বাবার গায়ের রং পেলেও
জমিদারী মাঠে দৈনিক মজুরীর সাথে
মুখে, পিঠে যে কৃষ্ণ আস্তরন জমেছিল।
তোমাদের এই ঘোলাটে শহরে তা অনেক বেশী স্পষ্ট।
আজও এ কুমারী যে আয় পায়,
তা সোহরাওয়ার্দীর মাঠে ভাগ হয়ে যায়।
সাথে বেড়ে ওঠা এ নোংরা বস্তিতে
রাতের অন্ধকার, কখনো বা দিনের আলোতে
কৃষ্ণকুমারীও ভাগ হয়ে যায় বহু ভাগে।
পৃথিবীর পথে হাঁটতে হাঁটতে
তোমাদের ব্যস্ত শহরের হলুদ আলোতে,
আমি অনেক বেশি ক্লান্ত ।
তোমাদের জগতে আমাদের কেন জন্ম হয় বলতে পারো ?
ফুল হাতে আমাদের উপস্থিতিতে
তোমাদের প্রেম, কখনোবা নোংরা প্রেম,
মানবতারও উর্ধ্বে ওঠে !
আর তাই তোমাদেরই উচ্ছিষ্ট খাবারে ভাগ বসিয়ে,
রাস্তা কিংবা ভাগারে "মানুষে-কুকরে আজও বাঁচার লড়াই চলে"।
তাঁরও বাইরে পথ পুরুষের শত নোংরা দৃষ্টিতে
আমরা প্রতিদিনই ঝলসে যাই,
ঝলসে যায় আমাদের দেহ।
তবু সে দেহে কেন প্রান রেখে বাঁচতে চাই জানো?
মৃত্যুতে ভীষন ভয় !
এতো বড় পৃথিবীতে
একদিন তোমাদেরই কেউ বলবে,
প্রানহীন এ দেহের দাবিদার কে?
কোথাও কেউ নেই।
পর আর স্বার্থপরের পৃথিবীতে,
সেদিনের পরম সত্য-
বহুদর পর্যন্ত শেয়াল-কুকরের মত,
সোহরাওয়ার্দীর বস্তি থেকে বহুদূর পর্যন্ত,
প্রানহীন এ দেহের দুর্গন্ধ ছুটে যাবে।
আর তোমরা নাকে সুগন্ধি টিস্যূ মুড়িয়ে
ভীষন টোয়েন্টি সামথিং এর সফল বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে
আনন্দিত বক্তিতায় টেবিল ভেঙে ফেলবে।
তবে তাই হোক,
তোমরা বিশ্ববিবেক ফাঁকি দিয়ে তোমরা প্রগতির মঞ্চ কাঁপিও।
আমরা নিরবে হারাবো।

No comments:
Post a Comment