Tuesday, December 3, 2019

প্রিয় আরিয়ান


প্রিয় আরিয়ান,
তোমার লিখতে শেখার প্রতিক্ষায় আমি,
একটি ডায়েরি দেবো বলে।
সুখেও আমার কান্না ঝরে,
তোমায় ভালবেসে।

একুশ শতকের আজকের আমি,
তোমায় অনেক বেশি ভালবাসি।
এ প্রেমের যাত্রা তোমার অস্তিত্বহীন পৃথিবী থেকে।
তখনো তুমি জন্মাওনি।
কৈশরের পুরুষপ্রিয় অভিজ্ঞায়
চিরদিনই নারীবাদী যিনি।
তোমার আগমন প্রার্থনায়ই শুধু সে ব্যতিক্রমী।

আমি জানি,
নারী বিবর্জিতা এ সমাজ
আমার বিদায়ী সভায় একদিন রং খেলার আনন্দে হারাবে।
সেই দিনের অনুভূতি চিরে,
রক্তে, মস্তিষ্কে আর গলা রোধক চোখের জলে
সব প্রার্থনায় তুমি ছিলে পুরুষ রূপে।

তুমি আমার সন্তান নও,
সেতো অনেক পরের ঘটনা।
তবে তুমিই আমার প্রথম সাধনা।
একুশ শতকের পঞ্চদশ দশকে
৩ মে, একই দিনে ,
আমার অপেক্ষার শেষ দিন কাটে
তোমার আগমনী পৃথিবীতে।

কোন এক বিশেষ কারনে
তুমি বেশ কালো আর শীর্ন দেহে জন্মেছিলে।
বিদ্যূৎহীন বদ্ধ ঘরে,
ভাপসা গরমের উত্তপ্ত পৃথিবীতে,
তুমি শুধুই চিৎকার করতে।
মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষে আমি তখন অবসরে।
বারান্দার দরজা খুলে
শুধু তোমার সাথে হেটেছি দখিনা বাতাসে।

রাত ব্যতিত সম্পূর্ন দিনে
শুধু আমার সাথে তুমি ঘুমাতে।
ভুল বলেছি-
তোমার সাথে আমি ঘুমিয়েছি।
আমার বক্ষ ছিল তোমর ঘুমের শীতল পাটি।
কী এক নাজানা কারনেই প্রায়ই পাটিতে ঘুমাতে না তুমি।
তখন কাঁধ থেকে বুকে নামিয়ে সেভাবেই
আস্তে শুয়ে পড়তাম আমি।

এটা সম্ভবত এক মাসের কাহিনী।
তোমার আম্মুর সুস্থতার অপেক্ষা শেষে,
অসহ্য গরমের খাম খেয়ালি দাপটে
তোমার যাত্রা হয় নানাবাড়িতে।
তুমি তখনো মেঠো পথ ছেড়ে রাস্তায় ওঠনি।
যখন তুমিহীন সে শূন্য বারান্দায় নীরবে কাঁদছি আমি।

অপেক্ষার অন্তিম প্রহর শেষে,
দীর্ঘ একমাস কেঁটেছিল গ্রীষ্ম উঁচিয়ে বর্ষা আসতে।
সে সময় তোমার গ্রামে ইট বিছানো হলুদ রাস্তা ছিল না।
তোমাকে ফেরাতে,
এক মাইল পথ রেখে নৌকা বেঁধে,
আরও ৯ মাইল পথ পাড়ি দিয়েছিল
তোমার দাদা।

আর আমি, তোমাদের যাত্রা শুরুর ফোন সংবাদে
কাউকে না বলে তুচ্ছ কাঁদার বাঁধ মাড়িয়ে
১ মাইল ছুটে গিয়েছিলাম নৌকার কাছে।
তোমার দাদা- আম্মু দুজনেই ভীষন অবাক, সাথে আমিও।
আমারটা ঠিক অবাক বলা যায়না।
এটা ছিল মানতে না পারার সন্দেহবাদী এক জটিল প্রশ্ন।

আমার আরিয়ান !
সে তো ছিল জীর্ন আর বেশ কালো।
আর এখন যাকে দেওয়া হয়েছে
সে বেশ সুন্দর আর অনুমেয় এক ভবিষ্যৎ সুপুরুষ।
আমার ভীষন কষ্ট হচ্ছিল এই ভেবে,
আমার ভাইপো এতো সুন্দর হয় কী করে?
হয়তো কোন দুর্ঘটনায় তুমি পাল্টে গিয়েছে কারো সাথে ।
আমার সেই ছিপছিপে দেহের চিৎকারপ্রিয় রোগা ছেলেটিই প্রিয়।
হঠাৎ তোমার থুথনিতে আঁকা জন্ম চিহ্নটি আমার ভ্রম ভাঙাল।
শ্রেষ্ঠ সান্তনা তুমিই আমার ভাইপো।

এক সাথে শুরু আবার পথ চলা।
এবার আর তুমি অতোটা কাঁদোনা।
শুধু খুব ভোরে জেগে ওঠতে,
যখন আর কেউ জাগতো না।
অন্ধকারটা একটু কেটে গেলেই
তোমার আব্বু নিয়ে আসতো আমার কাছে।
টিপ টিপ বর্ষায়ও ছাতা মাথায় তোমাকে নিয়ে বেরিয়েছি খুব ভোরে।
প্রতিদিন খুব ভোরে প্রকৃতির পবিত্র বাতাশে
আমার কোলে তুমি খুব শান্ত হয়ে ভাসতে।

তোমার ছোট বেলায় আমার মনে পড়েনা,
বিশেষ অসুস্থতা ছাড়া খুব ভোরে কবে ঘুমিয়েছি।
তবু আমার ক্লান্তি ছিলনা, যখন -
এক বয়স্ক আত্মীয়া শুনে বললেন-
আযানের ডাকে জেগে ওঠা এ ঘুম ভাঙানি কান্না।
খুব ভালো আর সুলক্ষনা, তোমরা বিরক্ত হয়ো না।
এ মন্তব্যে আমরা ভীষন খুশি।

তারপর প্রায় অর্ধযুগ কেটেছে,
বাবা-দাদার হাত ধরে হেঁটে চলেছো তুমি।
স্কুল, কলেজ পেরিয়ে আজ ইউনিভার্সিটিতে আমি।
সেখান থেকেই লিখছি।
কেমন আছ তুমি?

Thursday, November 7, 2019

"স্মরনে মায়া আপু"


এই ছেড়ে যাওয়ার নিয়মে পা সবাইকে রাখতে হবে। রাত পোহাতে যত দেরি আমারও যাওয়ার সময় হবে।
সাধ্য কি আজ আপনাকে ঠেকাবার !
আপনার সব জিনিস হয়তো নিজ হাতে তুলে দিয়ে আসবো।কিন্তু কেউ কি জানে এ জিনিস কত ভারী?
যতদিন থাকবো এ জিনিস বহনের কষ্ট আমাকে যন্ত্রনা দিয়ে যাবে।
এ কষ্টে বহু স্বার্থ জড়ানো।
রুম ছেড়ে আপনি অনেক বাড়িতে থেকেছেন। তখনতো খারাপ লাগতো না। কিন্তু এখন আপনার ছেড়ে যাওয়ার প্রস্তুতিপর্বে
কেন গলা-বুক ব্যাথা হয়ে আসে?
ঘুম থেকে উঠে আর ঘুমাতে যাওয়ার আগেও শূন্যতা কাজ করে। আমাদের রুম যদি একটা পরিবার হয়, সেখানে আছে জনক(ফরিদা আপু), জননী(মায়া আপু),
বড় বোন(শিমলা আপু + উর্মী আপু), ছোট বোন(আজিনুর)।নিঃসন্দেহে তন্মধ্যে আপনিই জননী তুল্য।
আপনার অনুপস্থিতি ক্ষনে ক্ষনে আমাদের আমাদের উপলব্ধির কানে বাজবে।
মায়া আপু,আমরা যেটা মুখে বলি সেটা হয়তো ভালবাসা
আর যেটা বলতে পারিনা সেটা কষ্ট।
ভাল থাকবেন আমাদের ছেড়েও।
স্মরনে Maya Khatun,
রুম নং- ৪২০,
বাংলাদেশ - কুয়েত মৈত্রী হল।

Wednesday, October 30, 2019

১৯৯৮ সাল, বন্যার বিধ্বংসী জোয়ারে শত শত পরিবারের সম্মৃদ্ধি ভেসে গিয়েছিল, আর আমার জানা একটি পরিবারে আজন্ম কালের দুঃখ এসে তীরে ভীরেছিল। একই সাথে বন্যা, বৃষ্টি আর ঝড়ের প্রচন্ড তান্ডবে আমার দেখা সে গৃহকোনে নবজাতকের চিৎকার ধ্বনিত হচ্ছিল আকাশে-বাতাশে। আমার জন্ম নেওয়ার দুঃখ ইতিহাসে সে চিৎকারই ছিল শুধু এক অস্তিত্বের প্রমান। ঝড়ের দাপটে প্রদীপ নিভে যায় সারা গ্রাম অন্ধকার, নবজাতকের চিৎকার শুনে অন্তর কাঁদে ঠাকুর দাদার। নবাগত পুত্রের শিয়রে আলোর ব্যবস্থায় কিছু না শুনেই আমার দাদা ছুটেছিলেন এক টুকরো আলোর সন্ধানে। কে জানতো মোর বৃদ্ধ দাদু আসবে না আর ফিরে। পৃথিবীর মাঠে রাত থেমে ভোর নেমে প্রমান করে আমি আমার দাদুর স্বপ্ন রাখাল নই। তাই সুকুর নামটি ৩০ ডিগ্রী এ্যাংগেলে ঘুরে হয়ে যায় সুকুরন। আমি সেই সুকুরন, একটি দুঃখ, তবে সে দুঃখ এতো ছোট নয়। জন্মের সময়ই আমার বুকের বা'পাশে সূক্ষ একটি চামড়ার থলিতে কিছু একটা ঝুলছিল। একবর চুপসে যায় আরেকবার প্রসারিত হয়। গ্রামের এক ডাক্তার পড়ুয়া ছেলে বলেছিল ওটা হৃংপিন্ড।
আমার হৃৎপিন্ডটা বাইরে থেকে ঝুলছে, একটা অতি পাতলা চামড়ার থলিতে আর তার সংকুচন-প্রসারন বাইরে থেকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। এই ব্যতিক্রম ঘটনা সবাই বেশ উপভোগ করে।
আমার শরীরের সমস্যা আর দিন দিন তাতে বাড়তে থাকা যন্ত্রনায় আমার কোন কষ্ট নেই। শুধু ভীষন কষ্ট হয় আমার বাবার কালো মুখখানা দেখে। মানুষ যতই সহানুভুতি আর দুঃখ প্রকাশ করে নিজেকে মহৎ প্রমানের চেষ্টা করুক না কেন, আজন্ম এ যন্ত্রনানুভুতি শুধু আমার বাবার ঘুমকেই হারাম করবে।
ছোট বেলায় কিভাবে ছুটেছি আমি জানিনা। যখন থেকে বুঝতে শিখেছি , আমার জন্য নয় আমার বাবার পানে তাকিয়ে আত্মাহত্যা করেছি। কিন্তু ক্ষতটাতো শরীরে, আত্মায় নয় । তাই সম্ভব হয়নি রক্তটানে ব্যথিত প্রিয় পরিবারকে মুক্তি দেওয়া।

হয়তো শারীরিক খুতসহ জন্মানোর দুর্বলতার দরুনই স্রষ্টার অদৃশ্য অস্তিত্বের প্রতি বিশ্বাসটা একটু বেশীই ছিল। আর তাঁরই বিধান স্মরনে শরীর আর আত্মাসহ গোটা আত্মহত্যার চিন্তাকে স্পষ্ট চিত্তে পত্যাখ্যান জানিয়েছি। শুধু বিশ্বাসে নিয়েছিলাম এ জগতের দুঃখ শেষে পরজগতের জান্নাত পাবার আশ্বাস।
তখন আমার প্রার্থনা ছিল-
হে আল্লাহ, আমার জীবনে যা কিছু ভাল কাজ হবে সব তোমার কাছে সঞ্চয় রেখো, তার তিল পরিমানও আমি ব্যয় করতে চাই না। আর যত অন্যায়, পাপ আছে সব কিছুর প্রতিদান আমাকে এ জগতে দাও। আমি এখানেই সব ব্যয় করে যেতে চাই। যত খারাপ তুমি আমায় এপারে রাখ। প্রয়োজনে আমায় তুমি এমন কঠিন শাস্তি দাও সেটা সহ্য করতে না যদি আমার মৃত্যুও হয়, সেও ভালো। কারন নিঃসন্দেহে এ জীবন ক্ষনস্থায়ী। দুঃখ যত কঠিনই হোক, মৃত্যুতে হলেও তার সমাপ্তি আসবে। কিন্তু ওপারে বহমানিত অনন্তকালের নিঃসঙ্গ আমিকে ক্ষমা জানিয়ে তোমার সাক্ষাত দিও। আর আজ থেকে মৃত্যু অবধি এ অধম জীবনের পাপিষ্ট জানালায় তোমার রহমতের কিরন দিতে দাও তা যেন হয় আমিমুক্ত এই সংসারে বাবা-ভাইদের মক্তির হাসি।
পৃথিবীর সব কষ্টের কফিনে জড়িয়ে আমাকে সমাধিস্থ করা হলেও আমার কোন দুঃখ নেই। দুঃখ আমার বাবাকে নিয়ে। তার কি অপরাধ, আমার জন্য তার জীবন কেন ভারী হল?
তার অন্তর্চিন্তা আর কষ্টানুভুতিটা আমার পক্ষে উপলব্ধি সম্ভব নয়। তাই আমার চারপাশের কারো প্রতিই আমার কোন অভিযোগ নেই
আমার এমন জীবনে শুধু আমার মা আমার কথা ভেবে কষ্ট পেতেন। কিন্তু কেউই কেন যেন আমাকে স্বাভাবিকভাবে নিতে পারতো না। আমি তাদের স্বাভাবিক চিন্তার পথে অস্বাভাবিক বাঁধা হয়ে দাড়িয়েছি। প্রতিনিয়ত আমাকে নিয়ে চিন্তা তাদের রক্তকে বিষিয়ে তুলছিল। আমার ভুল ধরার অপেক্ষায় সবাই প্রত্যেক মুহূর্তে প্রস্তুত ছিল আর তাই সন্ত্রস্ত থেকে আরও বেশী ভুল করতাম। এসব ঘটনায় সবাই খুব রেগে যায় এবং খুব স্বাভাবিকভাবে তাদের মুখ থেকে খারাপ ব্যবহার বেরিয়ে আসে। আমার প্রতি এ ব্যবহার তাদের অভ্যাসে একাত্ব হয়ে গেছে। প্রথম থেকেই ভীষন খারাপ লাগতো তবে নিজের অবস্থান জানতাম বলে নিজকেই লুকিয়ে রাখতাম।
বাবা-ভাইয়া যখন বাইরে থাকত তখনই সব কাজ গুছিয়ে রাখতাম আর তারা এসে পড়লেই লুকিয়ে পড়তাম। ঘরে ভাল কিছু রান্না হলেই সবাই একসাথে বসে খাওয়া-দাওয়া করতো। শুধু আমিই লুকিয়ে থাকতাম। আমার এই অনুপস্থিতিও আজ তাদের দীর্ঘ দিনের অভ্যাস।
সবাই যখন চলে যেত দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে দ্বিগুন ক্ষুধা নিয়ে খতে আসতাম। আমার মা এসে আমার জন্য তুলে রাখা ভাল কিছু খাবার দিয়ে যেতেন।

Saturday, October 19, 2019

যদি শিল্পী হতাম,
কাগজে রং ঢেলে তোমায় ভোর রাতের আকাশ পাঠাতাম।
তুমি হয়তো প্রথম দেখতে,
বাতাশের রং কেমন !
কাকহীন এ রাজধানী,
ভাবতে কতটা খামখেয়ালি !
তুমি যদি দেখতে-
 বসন্তের এ পূর্ন জ্যোস্নায় হঠ্যাৎ আনন্দ উৎসবে।
কি করে ছোটে মেঘেরা হলি উংসবে!
 সেদিন ৩ রা মার্চ,
 চোখ ভরা কথা আর কন্ঠরুদ্ধ নীরব চিৎকারে,
আমার চাওয়ার ভয়ংকর বলি দেই
তোমার চাওয়ার তরে।
মাঝে মাঝে উত্তর জানাই আমি ভাল আছি।
হয়তো  তাই,
তোমাকে ছাড়াই আমি সুখী।
তোমাদের প্রান সভ্যতার নিয়ম ভেঙে,
নির্জন রাতের জ্যোস্না আলোতে,
নিরবে হেঁটে যাই তাঁরার রাজত্বে।
ওরা মিটি মিটি হাঁসে।
সেখানে দাড়িয়ে তোমার আনন্দ অনুভবে
আমারও হাসি পায় ভীষনভাবে। 
ক্লান্ত ভুবনে আজ এক সন্তুষ্ট পথিক আমি।
রাত, রাতের বুকে চাঁদ, চাঁদের চোখে মেঘ
সবার হাসিতে আজ আমি নিশিত কাননী।
সবার জন্য আমার সময় আছে।
যাঁর বিপরীতে থাকতে তুমি।
তোমার দুঃখদানই আমাকে উদার করেছে।
তুমি হয়তো দেবতা।
ভালোর পূজারী।
তাই ভালকে ভালবেসে,
খারাপে নীরব থেকেছো।
বুঝিয়েছো কোথাও নেই তুমি।
আমিতো মানুষ,
আমার ভুল হয়েছে
দেবতায় স্বপ্ন এঁকে।
তুমি হয়তো আমায় ভুল বুঝবে।
তবে বিশ্বাস কর-
আমি তোমায় আজও ভালবাসি।
সে ভালবাসা বেঁচে আছে তুমি বলে নয়,
আমার প্রথম প্রেম সেই অজুহাতে।
আমার অনুভুতি তোমায় ফিরে পেতে নয়,
কভু যেন ফিরে না আস সেই চাওয়ায়।
সে প্রেম, যাকে ভাল রাখার সামর্থ্য থাকলে,
আকড়ে ধরে বাঁচতে চাইতাম।
ছিল না বলেই ছেড়ে আসলাম।
ভাল থেকো দূর অজানায়।
খারাপ থাকলেও  সে দায় আমার নয়।


Friday, October 18, 2019

দেব প্রেম


সুন্দরই পবিত্রতম।
সে পবিত্রতার প্রতি প্রেমই পুন্য
সৃষ্টির সম্ভ্রমে তুমি তাই সুন্দরের পূজা করে
পবিত্রতার প্রেমে পড়
ইহা তোমার কর্তব্য।
প্রেমে পড় বাতাশের গানে
অথবা সরল হাঁসিতে।
প্রেমে পড় নেতার বক্তব্যে
অথবা শিশুর নিষ্পাপ ঠোঁটে।
টাইটানিকে জ্যাক পড়েছিল এক আগন্তিকার হাতের প্রেমে।
শুধু হাত দুটো।
আমি পড়েছি তোমার কথা আর সুরের প্রেমে।
শুুধু কথার সুর।
আরও প্রেমে পড়তে বাধ্য হবো।
যদি তুমি পাল্টে না যেয়ে থাকো।
মানুষের লেখনি, কবিতা অথবা তার কথামালারা বলে,
সে কি চিন্তা করে?
আমি তোমার চিন্তার প্রেমে পড়েছি,
পড়েছি সরল গাথুনির প্রেমে।
প্রেম এঁকেছি তোমার মায়াবী কন্ঠে।
ব্যক্তির প্রেমে পড়া হয়ে ওঠে না।
তোমরা কেউই অন্য মুখে নিজেকে প্রশংসিত শুনে,
সরলতায় দাড়িয়ে থাকতে জানে না।
বড্ড জটিল হয়ে পড়ো।
তবে আমার প্রেমের সরল প্রকাশে,
যদি তোমাতে এতটুকু অহংকার না জাগে।
তবে হয়তো অজান্তে তোমারও প্রেমে পড়ব।
অনুরোধ শুধু ভয় পেয়ো না।
এ প্রেম খুবই পবিত্র।
পবিত্রতায় স্বার্থ নেই।
স্বর্থের তুচ্ছ আলিঙ্গনে।
আমি আমার নিঃস্বার্থ পবিত্রতাকে
জলাঞ্জলি দিতে রাজি নই।
ইংরেজ কবি লর্ড বায়রন বলেছিল- যাকে ভালবাস,
তাঁর জন্য জীবন উৎসর্গ যত সহজ,
সংসার তত সহজ নয়।
এ এক নিঃস্বার্থ প্রেম ভক্তি ।
আমি এর মর্ম বুঝি।
প্রকৃত প্রেম আর পবিত্রতা,
মানুষের কাছে দেবতা অথবা তাঁর গুন।
আর প্রেমবাহী এ মানব মন, এক অতি তুচ্ছ প্রান।
যে দেবতায় জীবন উৎসর্গ করা যায়,
সেখানে সংসার সাধনা নয়।
ইহা পাপ, ভক্তির অবমাননা।
প্রেম যদি সংসার প্রিয় হয়ে পড়ে,
তবে সে প্রেম রাজ্য স্বার্থের দাপটে
পবিত্রতা শূন্য হয়ে ওঠে।
আমি এক পবিত্র প্রেমে পড়েছি।
এ প্রেমের কুঠুরিতে তুমি স্বার্থের বালাই পাবে না।
ভাবছো তবে অন্য কাকে ঠকাচ্ছি?
না।
যদি তুমি সত্যি দেবতা হতে,
আমি মর্ত্যে থেকেই সে দেবতায় উৎসর্গ হতাম।
অন্য কাহাতে নিজেকে না বিলিয়ে,
এক দেব প্রেমে হাসতে হাসতে মৃত্যু অব্দি যেতাম।
আর যদি তুমি যোগ্য না হও।
যদি আমার সামান্য প্রশংসায় দেবত্ব হারিয়ে
মর্ত্যের মাটিতে বিলিন হয়ে যাও।
তবে তোমা অভিনিত মহৎ চিন্তার আপেক্ষিক প্রেম,
আমার বিদ্রুপাত্মক সামান্য হাঁসিতে
সিগারেটের ধোঁয়া হয়ে
উড়ে যাবে এক মুহূর্তে মর্ত্যের নোংরা বাতাশে।

Thursday, October 17, 2019

নারী

সৃ্ষ্ট পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ নির্বোধ আর মূর্খ প্রানী,
সবচাইতে স্বার্থপর, অন্ধ আর আত্মঘাতী তুমি।

আর আমরা নারী।
বলতে পারো, তোমারই আবেদনী প্রার্থনায়
তোমা হতেই উথিত এক অদ্ভুত বিষ্ময়াতীত সৃষ্টি!

যে তাঁর অহেতুক আবদারে
খোলা সমুদ্রে তোমার জীবন নিয়ে খেলবে।

আবার বেহূলা হয়ে তোমারই প্রেমে
আমৃত্যু পদ্ম হয়ে জলে ভাসার শপথে হারাবে।
যাঁর আড়ম্বরী আদিক্ষেতায় তোমায়
রোবসপিয়ারের গিলোটিনে চড়াবে।

যাঁর আবেদনী প্রেমে তুমি ভারত ভূখন্ডে
প্রকৃত প্রেমের কৃত্রিম সমাধি জাগাবে।

যে আরও শত রবিকে রবীন্দ্রনাথ,
আর দুখুমিয়াকে নজরুল বানাবে !

আমি মেঘের কোলে চমকে যাওয়া সামান্য বিদ্যুতের কথা বলছি !
তবে এটাই গোটা ভারতভূমি না।
আমি বলছি যে অনন্যার কথা !
তুমি জানো- তাঁর অপর নাম দরিদ্রতা !

তোমাদের প্রেম মুষ্ঠির ভিক্ষাপাত্র হয়ে,
তোমাদের ভাষায়,কাল থেকে মহাকাল
শুধু উপযোগ মেটাতেই যাঁর জন্ম হয়েছে।

রাতের জগৎ উর্ধ্ব চিৎকার আর
দিনে যাঁর নুপুরের জাগ্রত ধ্বনিতে,
তোমাদের বাদশাহী বাংলো গড়ে ওঠে।

ভরা সমাজে পণ্যের মতো দেখে,
ধূসর সার্টিফিকেটে মূড়ে আবার যাকে ঠেলে দাও অন্দর মহলে।

মহামানবের দিব্যি অভিনয়ে,
চায়ের আড্ডায় ডেকে,
শুধু সাদা কাগজের চিঠির ভাঁজ উপহার দাও যাঁকে।

রাতের নীরব অন্ধকারে পশু শক্তির যথেচ্ছা ব্যবহার শেষে,
আবার দিনের আলোতে যাঁর সতীত্বহীনতার বিচারে বসো।

পড়ন্ত বিকেলে বিধবার শরীরে রংহীন থান জড়িয়ে দিয়ে,
রাতেই আবার সেটা কেড়ে নোংরা রঙিন স্বপ্ন দেখাতে আসো।

কুমারির গর্ভে অসম্মান রেখে,
মহাসমারোহে আরেক নারীর অপমান রচিতে ছুট ।

তোমরা পুরুষ, তোমরা সমাজপতি।
অসম্মানের সীমা লঙ্ঘন করো না।
এ বিশ্ব সমাজের অর্ধেক নারী।
দোহাই তোমাদের.
তাহাদের আলাদা জাতি পরিচয়ের ইঙ্গিত দিও না।
কালী, মহাকালী আর দেবী, মহাদেবী এ সমাজের
অমোঘ মাতৃত্ব ভুলো না।
তাঁর গর্ভ বিনা এ পৃথিবীতে ,
তোমাদের আগমনী অস্তিত্ব পৌঁছবে না।

এমন কোনদিন না আসুক ,
যেদিন গোটা বিশ্ব নারী সত্ত্বা এক হয়ে,
তোমাদের অবাধ অসম্মানের কাঁটা দিয়ে,
তোমাদেরই উপরে ফেলা হবে।
আর পাল্টা প্রতিবিপ্লবী আর কোন পুরুষ অভিযান,
ভয়ংকর হওয়ার আগেই তোমাদের উত্তরসূরীদের
শিশু সমাধি রচিত হবে।
লালিত হবে শুধু নারী তনয়া।
সংখ্যাগিষ্ঠতার দাড়ি-পলায়,
দুই-তৃতীয়াংশ অথবা তাঁরও অধিক নারী উথানে,
 তোমরা সেদিন অনেক নিচে পড়ে যাবে।
আর সমাজপতির শোষন দন্ড কেড়ে,
নারী সেদিন নতুন সমাজ গড়বে।
যে শুধু তাঁর পছন্দের পুরুষকে বেছে নিয়ে,
বাকি তোমাদের ক্ষুধার্ত শরীরের ওপর
শুধুই অজস্র অপবাদ চাপানোর নেশায় মাতবে ।
আর তোমরা অন্যায় গর্ভজাত নারীর যেকোন সন্তানের
মিথ্যা দায় নিয়ে আমৃত্যু অর্থনীতিতে
ক্রীতদাস হয়ে থাকবে।
আর তোমাদের শরীরের মাংসমূল্যের দামে,
শহরে শহরে সেদিন বেগমী বাংলো গড়ে উঠবে।

সেদিনের সেই মুজুরিবিহীন আমৃত্যু শ্রমিক সমাজ,
তোমারা চাইলে নিশ্চই মানবাধিকার নিয়ে কবিতা লিখতে পারবে।
সে অধিকার রাখা হবে।
তবে মনে রেখ,
জাগ্রত নারী মহল উঁচিয়ে,
তোমাদের পুনঃউথান অসম্ভব।
সৃষ্টির ইতিহাসে পৃথিবী নিয়ন্ত্রনের যে মহান মাতৃত্ব,
দেওয়া হয়েছে নারীকে।
সে উর্বরতার ইতিহাস রুদ্ধ করতে,
বড়জোর তোমরা বোমা ফেলতে পারো আকাশ থেকে।
কিন্তু অবধারিত কেয়ামতের মহাপ্রলয় ছাড়া
সে অধিকার আমরা ছাড়বো না !

আমি ৫০০, ১০০০ বা সহস্রাধিক পরের কথা বলছি...
মানুষের খামখেয়ালিতে যখন একদিন
এই অক্সিজেনবিহীন পৃথিবীতে মানুষ শুধু
কার্বন-ডাইঅক্সাইড খেয়ে মরবে।
আর সেই মৃত-ভস্ম দেহের জৈব ভূমিতে
দিগন্ত বিস্তৃত ছেদহীন আকাশের নিচে
বৃক্ষ সমারোহের সবুজ মহাসাগর ছুটবে

তবে হে মানুষ বনাম পুরুষ,
আজও আমরা তোমাদের জন্য।
আমরা ২য় বিশ্বযুদ্ধের পর পৃথিবী ব্যাপী উপনিবেশবাদের অবসান,
কিংবা ফরাসি বিপ্লবের পর রাজতন্ত্রের যবনিকা পতন চাই না।
আমরা নারী।
শরীরে সৃষ্টির আনন্দ নিয়ে
বিধ্বংসী বিপ্লব খুঁজি না।
তোমরা শুধু অসভ্যতার সীমা লঙ্ঘন করো না।
মূর্খতার আত্মঘাতী আফিম ছেড়ে পৃথিবীটাকে বাসযোগ্য রাখ ।
আর গ্রেটা থুনবার্গের চোখের ভাষায় অস্তিত্ব রক্ষার সংকল্পে জাগো....
আগাম অভিবাদন তোমাদের।

ভাবীর কাছে চিঠি...

ভাবি সালাম নেবেন,
কারন যত তুচ্ছই হোক, এটা সত্য যে পৃথিবীর অনেক ভাবির তুলনায় আপনি আমাকে অনেক বেশি ভালবাসেন। আপনি সুন্দরী, বুদ্ধিমতী তাঁর থেকেও বড় পরিচয় আপনি আমার প্রিয় ভাইয়ের স্ত্রী  যেটা সবাই জানে। মানুষের না জানারও আবডালে আমার  কাছে আপনার একটা পরিচয় আছে, একটা সম্পর্ক আছে। আমার মন আর মস্তিষ্ক বলে সেটা মানবতার সম্পর্ক।
তুলনামূলকভাবে বলছি, পৃথিবীর অন্য সব ভাবিদের তুলনায় আপনি বেশ ভাল আর বুদ্ধিমতী। এই গুনগুলো না থাকলে আপনার সাথে এ ধরনের সম্পর্ক থাকতো বলে আমি মনে করি। এর কারনটা নিশ্চিতভাবে এরকম যে,  কোন নতুন বিয়ের পর একটা সংসারে আপাতত একজনই মানুষ থাকে যাঁর  ঐ সংসারে আপন বলে কেউ থাকে না। ধীরে ধরে স্বামী সম্পর্ক মজবুত হয় এবং একজন ভালো বন্ধু হিসাবে সন্তানের জন্ম হলেও এটা একটু পরের ঘটনা। আপাততভাবে তাই এই পর, স্বার্থপর আর পক্ষপাতদুষ্ট পারিবারিক সদস্যদের ভিড়ে পৃথিবীর সকল পরিবারের নবাগত পুত্রবধুদের প্রতি আমার সমবেদনা। প্রসঙ্গত, আবেগীয় অথবা মানবতার এই যৌক্তিক কারনেই সব সময় আপনার পাশে আমি একটা অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করেছি। উপলব্ধি হলে সামান্য বুঝতে পারবেন।
আপনাকে প্রায়ই বলি, সুন্দর আবেগ আর কুৎসিত স্বার্থের কাছে মানুষ খুব খারাপভাবে অন্ধ আর স্মৃতিহীন। খারাপভাবে অন্ধ আর স্মৃতিহীন বলছি এজন্য যে আমরা নিজের দোষ আর অন্যের ভাল কাজ  ভালোভাবে দেখতে পাইনা। দেখলেও খুব ঝাপসা দেখি আর পরক্ষনেই তা ভুলে যাই। যাঁর ভেতরে আছি আপনি, আমি, আমরা সবাই। এটা যদি বুঝতে পারতাম তাহলে এ জীবনের প্রতি আমাদের ক্লান্তি আসার কথা। সারা পৃথিবী জুড়ে শুরু থেকে আজ অব্দি এমনকি অদূর কেয়ামত পর্যন্ত এই একই ঘটনা ঘটছে এবং ঘটবে। আমি খানিকটা ক্লান্ত সেই ধারনা থেকে বললাম। আপনি, আমি, আমরা, আমাদের এই ছয় বছরের সংসারে খুব সামান্য হলেও আমি কিছু বাস্তবতা শিখেছি।
আমার লাভ হয়তো এটুকু। 

Wednesday, October 16, 2019

কৃষ্ণকুমারী


যমুনার ওপারে কুটির
আমি সে কুটিরের কৃষ্ণকুমারী।
কোনটাই আমার নাম নয়।
কুমারী আমার পদবী,
আর কৃষ্ণ সঞ্চিত মজুরি।

যাঁর শৈশব উড়ে গেছে
রৌদ্র দগ্ধ শুষ্ক বাতাশের ঝাপটা দাপটে।
কৈশরে যাঁর খিল খিল হাসিতে
যমুনার বুকে ভাসা যুবকের মুখে
উঠতো শ্বেত মল্লিকার অলংকার জেগে।
সে হাসিতে আমি ভাসিনি।
গহীনে সে অদূরের বাল্যবেলায়
ভেসেছিলাম  বাউলের একতাঁরায়।
তোমাদের লোকগাঁথার আধুনিকতায়
কৃষ্ণকে যদি সুর দেবতা বানাও  
তবে আমাকেও ভাগ দাও।
হাসতে আর কাঁদতে মানা থাকলেও
দুঃখ আমায় আজন্ম সুর দিয়েছিল।
জন্মবেলায় যমুনার স্রোত উঁচিয়ে
যাঁর চিৎকার সুরেই নাকি দূর সমুদ্রে
বাবা হারিয়েছিল না ফেরার শপথে।
আর আমার একাকিনী মাকে 
পরের মাঠে শ্রম ছেড়ে,
অনাহারে কাঁদতে দেখেছি আমার পাশে।
নাড়ী ছিড়ে খন্ডিত হলেও
তাঁর অসহায় দীর্ঘশ্বাস কাঁচা নাভি চিরে
ঠিক  হৃৎপিন্ডে পৌঁছে যেত।
তাইতো দিনের আলোতে
মিথ্যা ঘুমের সত্য অভিনয়ে বিজয়িনী আমি
কাজ শেষে মায়ের ফেরার শব্দে,
চোখ খুলে হাসতাম আমাদের ছোট্ট কুটিরে।
আর একটু বড় হলেই,
দিনের আলোতে শরীরে খন্ডিত আঁচল জড়িয়ে
দুই ক্রোশ পাড়ি দিয়েছি আমি অন্ধকার পৃথিবীতে।
সেবেলায় শুধু সুরের সূরাপানেই
আমার শ্রম শরীরের ক্লান্তি ফুরাতো
মহাকালের শূন্য গহবরে।
দিন শেষে আমার সামান্য মজুরি মূল্যে
দিব্যি রাত কেটে ভোর নামতো পৃথিবীর মাঠে।
কিন্তু নারী শ্রমের তুচ্ছ মূল্যে
দুটো বিবস্ত্র শরীর শুধু ভাত ই পেয়েছে।
জীর্ন কুটিরে একজনকে শূন্য দেহে রেখে,
অপরজন ছুটেছি তাই জমিদারী বাগানে।
এক সন্ধ্য়ায় সাহেবী করুনায় শাড়ি হাতে ফিরি কুটিরে।
ফিরে এসে শুনি-
ধ্বসে পড়া কুটিরে পুরুষ ধ্বনি !
মা বলেছিল বাবার মত সুর পেয়েছিস ।
তবে কি আজ বাবাকেও পেয়েছি ?

বললাম তুমি কি আমার বাবা ?
আমি কৃষ্ণকুমারী।
কোনদিন কাঁদিনি।
তোমাকে ধরে কাঁদতে চাই ।
আসবে কি ?
আসেনিতো ! কুটির ভেঙে শুধু আদেশ এসেছিল,
সাঁতার না জানলে যমুনায় ডুবে মর।
সে রাতের যমুনাস্রোত আমার সমাধি আঁকেনি।
শুধু খানিক দূরে নির্বাসনে টেনেছিল।

এক মাছ মালিকের দাড় ঘেঁষে দাড়ালাম।
বালক কৃষ্ণ আমি।
ভাত দেবে ?
কাজ জানি।
স্বল্পভাষী সে তুলে নিল জাহাজে।
তাঁরপর ঢাকার পথে।
ছেলেদের দুটো প্যান্টও দিয়েছিল সে।
সম্ভবত কিনে।
তাঁরপর আড়ালে পড়ে নিয়ে,
ঢাকার রাস্তায় জ্যামের মহামারিতে,
ক্লান্ত শহরের মাঝপথে,
নিরবে হারিয়ে  যাই শাহবাগের ফুটপাতে।

আর সেই থেকে আজ অব্দি
সোহরাওয়ার্দীর বস্তিতে কৃষ্ণকুমারী আজ
ফুলের ডালি হাতে।
ফুল হাতে শাহবাগ, টি.এস. সি. কিংবা রমনার মাঠে
তোমরা আমাকে প্রতিদিনই দেখো।
তবে এ ফুল কাননীর কাছে
তোমাদের পঠিত কৃষ্ণকুমরী
 আজও হার মানেনি।

ছেলেবেলায় বাবার গায়ের রং পেলেও
জমিদারী মাঠে দৈনিক মজুরীর সাথে
মুখে, পিঠে যে কৃষ্ণ আস্তরন জমেছিল।
তোমাদের এই ঘোলাটে শহরে তা অনেক বেশী স্পষ্ট।
আজও এ কুমারী যে আয় পায়,
তা সোহরাওয়ার্দীর মাঠে ভাগ হয়ে যায়।
সাথে বেড়ে ওঠা এ নোংরা বস্তিতে
রাতের অন্ধকার, কখনো বা দিনের আলোতে
 কৃষ্ণকুমারীও ভাগ হয়ে যায় বহু ভাগে।
পৃথিবীর পথে হাঁটতে হাঁটতে
তোমাদের ব্যস্ত শহরের হলুদ আলোতে,
আমি অনেক বেশি ক্লান্ত ।

তোমাদের জগতে আমাদের কেন জন্ম হয় বলতে পারো ?
 ফুল হাতে আমাদের উপস্থিতিতে
তোমাদের প্রেম, কখনোবা নোংরা প্রেম,
মানবতারও উর্ধ্বে ওঠে !
আর তাই তোমাদেরই উচ্ছিষ্ট খাবারে ভাগ বসিয়ে,
রাস্তা কিংবা ভাগারে "মানুষে-কুকরে আজও বাঁচার লড়াই চলে"।
তাঁরও বাইরে পথ পুরুষের শত নোংরা দৃষ্টিতে
আমরা প্রতিদিনই ঝলসে যাই,
ঝলসে যায় আমাদের  দেহ।
তবু সে দেহে কেন প্রান রেখে বাঁচতে চাই জানো?
মৃত্যুতে ভীষন ভয় !
এতো বড় পৃথিবীতে
একদিন তোমাদেরই কেউ বলবে,
প্রানহীন এ দেহের দাবিদার কে?
কোথাও কেউ নেই।
পর আর স্বার্থপরের পৃথিবীতে,
সেদিনের পরম সত্য-
বহুদর পর্যন্ত শেয়াল-কুকরের মত,
সোহরাওয়ার্দীর বস্তি থেকে বহুদূর পর্যন্ত,
প্রানহীন এ দেহের দুর্গন্ধ ছুটে যাবে।
আর তোমরা নাকে সুগন্ধি টিস্যূ মুড়িয়ে
ভীষন টোয়েন্টি সামথিং এর সফল বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে
আনন্দিত বক্তিতায় টেবিল ভেঙে ফেলবে।

তবে তাই হোক,
তোমরা বিশ্ববিবেক ফাঁকি দিয়ে তোমরা প্রগতির মঞ্চ কাঁপিও।
আমরা নিরবে হারাবো।

প্রিয় আরিয়ান

প্রিয় আরিয়ান, তোমার লিখতে শেখার প্রতিক্ষায় আমি, একটি ডায়েরি দেবো বলে। সুখেও আমার কান্না ঝরে, তোমায় ভালবেসে। একুশ শতকের আজক...