তোমার লিখতে শেখার প্রতিক্ষায় আমি,
একটি ডায়েরি দেবো বলে।
সুখেও আমার কান্না ঝরে,
তোমায় ভালবেসে।
একুশ শতকের আজকের আমি,
তোমায় অনেক বেশি ভালবাসি।
এ প্রেমের যাত্রা তোমার অস্তিত্বহীন পৃথিবী থেকে।
তখনো তুমি জন্মাওনি।
কৈশরের পুরুষপ্রিয় অভিজ্ঞায়
চিরদিনই নারীবাদী যিনি।
তোমার আগমন প্রার্থনায়ই শুধু সে ব্যতিক্রমী।
আমি জানি,
নারী বিবর্জিতা এ সমাজ
আমার বিদায়ী সভায় একদিন রং খেলার আনন্দে হারাবে।
সেই দিনের অনুভূতি চিরে,
রক্তে, মস্তিষ্কে আর গলা রোধক চোখের জলে
সব প্রার্থনায় তুমি ছিলে পুরুষ রূপে।
তুমি আমার সন্তান নও,
সেতো অনেক পরের ঘটনা।
তবে তুমিই আমার প্রথম সাধনা।
একুশ শতকের পঞ্চদশ দশকে
৩ মে, একই দিনে ,
আমার অপেক্ষার শেষ দিন কাটে
তোমার আগমনী পৃথিবীতে।
কোন এক বিশেষ কারনে
তুমি বেশ কালো আর শীর্ন দেহে জন্মেছিলে।
বিদ্যূৎহীন বদ্ধ ঘরে,
ভাপসা গরমের উত্তপ্ত পৃথিবীতে,
তুমি শুধুই চিৎকার করতে।
মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষে আমি তখন অবসরে।
বারান্দার দরজা খুলে
শুধু তোমার সাথে হেটেছি দখিনা বাতাসে।
রাত ব্যতিত সম্পূর্ন দিনে
শুধু আমার সাথে তুমি ঘুমাতে।
ভুল বলেছি-
তোমার সাথে আমি ঘুমিয়েছি।
আমার বক্ষ ছিল তোমর ঘুমের শীতল পাটি।
কী এক নাজানা কারনেই প্রায়ই পাটিতে ঘুমাতে না তুমি।
তখন কাঁধ থেকে বুকে নামিয়ে সেভাবেই
আস্তে শুয়ে পড়তাম আমি।
এটা সম্ভবত এক মাসের কাহিনী।
তোমার আম্মুর সুস্থতার অপেক্ষা শেষে,
অসহ্য গরমের খাম খেয়ালি দাপটে
তোমার যাত্রা হয় নানাবাড়িতে।
তুমি তখনো মেঠো পথ ছেড়ে রাস্তায় ওঠনি।
যখন তুমিহীন সে শূন্য বারান্দায় নীরবে কাঁদছি আমি।
অপেক্ষার অন্তিম প্রহর শেষে,
দীর্ঘ একমাস কেঁটেছিল গ্রীষ্ম উঁচিয়ে বর্ষা আসতে।
সে সময় তোমার গ্রামে ইট বিছানো হলুদ রাস্তা ছিল না।
তোমাকে ফেরাতে,
এক মাইল পথ রেখে নৌকা বেঁধে,
আরও ৯ মাইল পথ পাড়ি দিয়েছিল
তোমার দাদা।
আর আমি, তোমাদের যাত্রা শুরুর ফোন সংবাদে
কাউকে না বলে তুচ্ছ কাঁদার বাঁধ মাড়িয়ে
১ মাইল ছুটে গিয়েছিলাম নৌকার কাছে।
তোমার দাদা- আম্মু দুজনেই ভীষন অবাক, সাথে আমিও।
আমারটা ঠিক অবাক বলা যায়না।
এটা ছিল মানতে না পারার সন্দেহবাদী এক জটিল প্রশ্ন।
আমার আরিয়ান !
সে তো ছিল জীর্ন আর বেশ কালো।
আর এখন যাকে দেওয়া হয়েছে
সে বেশ সুন্দর আর অনুমেয় এক ভবিষ্যৎ সুপুরুষ।
আমার ভীষন কষ্ট হচ্ছিল এই ভেবে,
আমার ভাইপো এতো সুন্দর হয় কী করে?
হয়তো কোন দুর্ঘটনায় তুমি পাল্টে গিয়েছে কারো সাথে ।
আমার সেই ছিপছিপে দেহের চিৎকারপ্রিয় রোগা ছেলেটিই প্রিয়।
হঠাৎ তোমার থুথনিতে আঁকা জন্ম চিহ্নটি আমার ভ্রম ভাঙাল।
শ্রেষ্ঠ সান্তনা তুমিই আমার ভাইপো।
এক সাথে শুরু আবার পথ চলা।
এবার আর তুমি অতোটা কাঁদোনা।
শুধু খুব ভোরে জেগে ওঠতে,
যখন আর কেউ জাগতো না।
অন্ধকারটা একটু কেটে গেলেই
তোমার আব্বু নিয়ে আসতো আমার কাছে।
টিপ টিপ বর্ষায়ও ছাতা মাথায় তোমাকে নিয়ে বেরিয়েছি খুব ভোরে।
প্রতিদিন খুব ভোরে প্রকৃতির পবিত্র বাতাশে
আমার কোলে তুমি খুব শান্ত হয়ে ভাসতে।
তোমার ছোট বেলায় আমার মনে পড়েনা,
বিশেষ অসুস্থতা ছাড়া খুব ভোরে কবে ঘুমিয়েছি।
তবু আমার ক্লান্তি ছিলনা, যখন -
এক বয়স্ক আত্মীয়া শুনে বললেন-
আযানের ডাকে জেগে ওঠা এ ঘুম ভাঙানি কান্না।
খুব ভালো আর সুলক্ষনা, তোমরা বিরক্ত হয়ো না।
এ মন্তব্যে আমরা ভীষন খুশি।
তারপর প্রায় অর্ধযুগ কেটেছে,
বাবা-দাদার হাত ধরে হেঁটে চলেছো তুমি।
স্কুল, কলেজ পেরিয়ে আজ ইউনিভার্সিটিতে আমি।
সেখান থেকেই লিখছি।
কেমন আছ তুমি?
